Suvendu Adhikari on Mamata Banerjee: এসএসকেএমকে আইনি নোটিশ পাঠাতেই পাল্টা বেশি না ঘাঁটানোর কড়া ‘পরামর্শ’ মুখ্যমন্ত্রীর
Kolkata: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন নথি প্রকাশ্যে আসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে প্রবল আইনি এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, এবার তা চরমে পৌঁছল। এই ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনি নোটিশের পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে তাঁকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি নিয়ে গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য নন্দীগ্রামকে গোটা দেশের সামনে অপমান করেছিলেন। কারণ, ওই নথির দাবি অনুযায়ী তাঁর কোনো পা আদৌ ভাঙেইনি! এবার সেই অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং গোপনীয় চিকিৎসা-নথি ঠিক কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা জানতে চেয়ে রাজ্যের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মমতা। আর এই চরম আবহের মাঝেই নবান্নে ১টি মেগা সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই আইনি নোটিশ সম্পর্কে পাল্টা কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো ওই কড়া আইনি নোটিশে কোনো রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত অত্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্যের সার্বিক গোপনীয়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিয়ে ১টি বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতালের এমন স্পর্শকাতর এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা-নথি ঠিক কীভাবে এবং কার নির্দেশে বাইরে এল, তা স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি, এই গোপন নথি প্রকাশ্যে আনার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও বিস্তারিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই অত্যন্ত গুরুতর বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে অবিলম্বে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবিও জানানো হয়েছে ওই নোটিশে। আইনি মহল সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ওই নোটিশে সম্প্রতি লাগু হওয়া ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩-এর ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারার উল্লেখ রয়েছে, যা এই বিতর্ককে আরও ১টি নতুন আইনি মোড় দিয়েছে।

এসএসকেএমকে পাঠানো এই আইনি নোটিশ প্রসঙ্গেই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অত্যন্ত কড়া এবং আক্রমণাত্মক। নবান্নের বৈঠকে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে, “উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজেই ২০২১ সালের ওই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের দলের একাধিক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যে এফআইআর করেছিলেন এবং বিষয়টির তদন্ত করেছিল খোদ সিআইডি।” তাই নিজের চিকিৎসা-নথি ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে ওই আইনি নোটিশটি তাঁর নিজের কাছেই পাঠাতে বলবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই আইনি লড়াইয়ের মোকাবিলা করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।
এর ঠিক পরেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে আরও কড়া সুর এবং ১টি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, “প্রয়োজন হলে মমতার পায়ের আসল এক্স-রে এবং এমআরআই রিপোর্টও এবার জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে।” উল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আইনজীবীকে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে আর ‘বেশি না ঘাঁটার’ ১টি অত্যন্ত কড়া পরামর্শও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “উনি ভেবেছিলেন চতুর্থবার উনি আবার ক্ষমতায় ফিরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তাই নবান্নের ড্রয়ারে নিজের সমস্ত অত্যন্ত গোপনীয় কাগজপত্র অত্যন্ত নিশ্চিন্তে ছেড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষের ভোটে ফলাফল প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে উনি নবান্ন থেকে আর কিছু বের করে নিয়ে যেতে পারেননি!” শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে ১টি নতুন এবং বিরাট বড় প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।

তাহলে কি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাড়াহুড়োয় ফেলে যাওয়া সেই গোপনীয় কাগজপত্র থেকেই তাঁর পা না ভাঙার ওই এক্সক্লুসিভ নথি হাতে পেয়েছেন? এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের বিষয়ে অবশ্য তিনি আপাতত কোনো কিছুই স্পষ্ট করেননি। তবে দরকার পড়লে পরবর্তীতে তিনি প্রকাশ্যে জানাবেন যে ঠিক কোথা থেকে ওই গোপন কাগজপত্র তাঁর হস্তগত হয়েছে বলেও ১টি চরম সাসপেন্স তৈরি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে চোট পাওয়ার পর সম্পূর্ণ হুইলচেয়ারে বসেই গোটা রাজ্যে প্রচার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিখ্যাত ‘ভাঙা পায়ে খেলা হবে’ স্লোগানও রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সেই পুরনো রাজনৈতিক ঘটনাকেই সামনে রেখে এবার ফের শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর। এবার বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে মমতার ব্যক্তিগত চিকিৎসা-নথির গোপনীয়তা এবং তা প্রকাশ্যে আসার আসল উৎস।




