Sampita Pramanik Harassed: শুটিং সেরে ফেরার পথে মাঝরাস্তায় নামতে বাধ্য হলেন অভিনেত্রী, কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের
Kolkata: রাতের শহরের নিরাপত্তা নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই খোদ কলকাতার বুকেই চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হলেন জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক ‘বাঘিনী’-তে ‘মহুয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে যিনি ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে একেবারে ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলবার রাতে শুটিং সেরে বাড়ি ফেরার পথে ১ জন ক্যাব চালকের লালসার এবং অভব্য আচরণের শিকার হন তিনি। এই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা নিজেই ফেসবুক লাইভে এসে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ঘটনার আকস্মিকতায় তাঁর হাত-পা কাঁপছিল বলে তিনি জানান। এই ঘটনা আবারও একবার রাতের কলকাতায় মহিলাদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং অ্যাপ নির্ভর ক্যাব পরিষেবাগুলির চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে সম্পূর্ণভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ধারাবাহিকের শুটিং শেষ হতে বেশ কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল সম্পিতার। প্রথমটায় তাঁর পার্ক স্ট্রিটে ১ জন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও, রাত অনেকটাই হয়ে যাওয়ায় তিনি সরাসরি দমদমে নিজের বাড়ির উদ্দেশেই রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমা হলের সামনে থেকে তিনি ১টি অ্যাপ নির্ভর ক্যাব বুক করেছিলেন। কিন্তু গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পর থেকেই ওই ক্যাব চালকের আচরণ তাঁর কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং অস্বাভাবিক বলে মনে হতে থাকে। চালকের কথাবার্তা এবং হাবভাব দেখে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিনেত্রী মাঝপথেই গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে চালককে গাড়িটি অবিলম্বে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছে থামাতে বলেন।
![]()
সম্পিতা প্রামাণিকের অভিযোগ, ওই ক্যাব চালককে একাধিকবার গাড়ি থামানোর কথা বলা সত্ত্বেও প্রথমটায় তিনি কোনোভাবেই গাড়ি থামাতে চাইছিলেন না। বরং তিনি গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরপর সম্পিতা রীতিমতো জোরাজুরি এবং চিৎকার শুরু করলে শেষমেশ বাধ্য হয়ে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়িটি থামান ওই চালক। কিন্তু গাড়ি থামানোর পরেই ভাড়া নিয়ে শুরু হয় তুমুল বাকবিতণ্ডা। চালক ১টি কিউআর কোড এগিয়ে দিয়ে দমদম পর্যন্ত পুরো রাস্তার সম্পূর্ণ ভাড়াটি দাবি করেন। কিন্তু অভিনেত্রী অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে পালটা দাবি করেন যে, তিনি যেটুকু রাস্তা এসেছেন, শুধুমাত্র সেই ভাড়াই তিনি মেটাবেন, গন্তব্যে না পৌঁছে সম্পূর্ণ ভাড়া তিনি কেন দেবেন? এই যৌক্তিক কথাতেই চালক প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এই ভাড়া নিয়ে বচসা চলাকালীন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সম্পিতা যখন লাফিয়ে নিজের ব্যাগপত্র নিয়ে গাড়ি থেকে নামার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই ওই ক্যাব চালক অভিনেত্রীর টাকা-পয়সা এবং ব্যাগপত্র নিয়ে চম্পট দেওয়ার উপক্রম করেন। নিজের জরুরি জিনিসপত্র বাঁচাতে গিয়ে ওই গাড়ির পেছনে বেশ কিছুটা রাস্তা কার্যত দৌড়াতে হয় অভিনেত্রীকে। শেষমেশ অনেক লড়াই করে কোনো রকমে নিজের ব্যাগপত্র নিয়ে গাড়ি থেকে নামতে সক্ষম হন সম্পিতা প্রামাণিক। তাঁর সবচেয়ে বড় এবং গুরুতর অভিযোগ হলো, বিপদে পড়ে তিনি ক্যাব কোম্পানির অ্যাপে থাকা আপৎকালীন নম্বর বা ইমার্জেন্সি এসওএস (SOS) নম্বরে বারবার মেসেজ পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনো রকম কোনো উত্তর বা সাহায্য আসেনি। কোম্পানির এই চূড়ান্ত গাফিলতি অভিনেত্রীকে আরও বেশি অসহায় করে তুলেছিল।
Humayun Kabir Arrest: ‘পুলিশ ভোট করিয়েছে’, ১২ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক হুমায়ুন
এই ভয়াবহ ঘটনার পর চরম আতঙ্কে এবং নিরাপত্তাহীনতায় রীতিমতো হাত-পা কাঁপতে শুরু করে অভিনেত্রীর। রাতের রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে জীবনের এই চরম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তিনি সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর অগণিত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি অবিলম্বে কালীঘাট থানায় গিয়ে ওই অভিযুক্ত ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে ১টি লিখিত অভিযোগ বা ডায়েরি দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই ক্যাব চালকের খোঁজ চালাচ্ছে। তবে এই ঘটনা শহরের সাধারণ মহিলাদের মনে ফের ১টি বড় আতঙ্কের জন্ম দিল। অ্যাপ ক্যাবে উঠে যদি পরিচিত সেলিব্রিটিদেরই এই চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ কর্মরতা মহিলাদের নিরাপত্তা ঠিক কোথায়, সেই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।




