Humayun Kabir Arrest: পুলিশ সুপারকে ‘পদ্মশ্রী’ এবং নির্বাচন কমিশনকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার বিদ্রুপ নওদার বিধায়কের
Murshidabad: রাজ্যের রাজনীতিতে মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর সবসময়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। মঙ্গলবার রিজিনগরের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনভর তাঁকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম রইল। ভোটগ্রহণ চলাকালীন মঙ্গলবার সকালেই রিজিনগরে নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বা আজুপ-এর মূল দপ্তরের সামনে থেকে পুলিশের হাতে আচমকা ‘আটক’ হয়েছিলেন নওদার এই বর্তমান বিধায়ক তথা আজুপ চেয়ারম্যান। পুলিশের তরফ থেকে সেই সময় সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল যে, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং আইন ভাঙার নির্দিষ্ট কারণেই হুমায়ুন কবীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে ঠিক ১২ ঘণ্টা পর, যখন উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। পুলিশ হেফাজতে বা লকআপে একটানা ১২ ঘণ্টা কাটানোর পর মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই হুমায়ুন কবীরকে রিজিনগর থানা থেকে সম্পূর্ণ নিঃশর্তে ছেড়ে দেওয়া হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ এখন একেবারে তুঙ্গে।

তবে সবচেয়ে বেশি বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে, সকালে যখন হুমায়ুন কবীরকে আটক করা হয়েছিল, তখন পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে সরকারিভাবে ‘গ্রেফতার’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু দিনভর তাঁকে থানায় আটকে রাখার পর, রাতে ঠিক কী কারণে বা কোন আইনের বলে তাঁকে হঠাৎ করে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো, সেই বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ প্রশাসনের এই অদ্ভুত এবং রহস্যময় নীরবতা নিয়েই এখন বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে শুরু করে খোদ হুমায়ুন কবীরের দলও প্রবল প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ঠিক পরপরই রিজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আইসি অঞ্জন বর্মন বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে সোজা হুমায়ুনের ওই দলীয় অফিসে পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা হুমায়ুনকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে নিজের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
![]()
কিন্তু নিজের মেজাজে অনড় হুমায়ুন কবীর পুলিশের সেই নির্দেশ মানতে একেবারে সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানান যে, তিনি কোনো আইন ভাঙছেন না এবং নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসে থাকতেই পারেন। তাঁর এই কথা শোনার পরই পুলিশ কার্যত বলপ্রয়োগ করে। অভিযোগ উঠেছে যে, সেই সময় উপস্থিত বিশাল পুলিশ বাহিনী হুমায়ুন কবীরকে রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে এবং জোর করে টেনে হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে চাপিয়ে সোজা রিজিনগর থানায় নিয়ে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা তাঁকে ওই থানার ভেতরেই কার্যত গৃহবন্দি বা আইসোলেশনে রাখা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাত ৯টার পর যখন উপনির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া এবং ইভিএম সিল করার কাজ শেষ হয়ে যায়, তখনই তাঁকে থানা থেকে বেরোতে দেওয়া হয়। রিজিনগর থানা থেকে দীর্ঘক্ষণ পর বার হয়েই ফের একবার পুলিশের বিরুদ্ধে এবং গোটা ভোট প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নওদার এই দাপুটে বিধায়ক।

থানার গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করেন। পুলিশের সমালোচনা করে তিনি অত্যন্ত বিদ্রুপের সুরে এবং ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় বলেন, “আজকে রিজিনগরে পুলিশ প্রশাসন যেভাবে অভাবনীয় কাজ করল, তাতে আগামী ৯ই তারিখ ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর আমি নিজে ভারত সরকারের কাছে এই পুলিশ জেলার সুপার বা এসপি-কে ‘পদ্মশ্রী’ এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করব।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, ভোট পরিচালনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি কতটা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। এরপর তিনি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে সারাদিন ধরে জোর করে থানায় বসিয়ে রেখে বাইরে আসলে পুলিশই গোটা ভোটটা করিয়েছে। আমি না থাকায় আমার কর্মীরা কতটা অসহায় হয়ে পড়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়।”

হুমায়ুন কবীর নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরে আরও জানান, “প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে আমার কাছে আমার নিজের ফোনটা পর্যন্ত ছিল না। আমাকে বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। তাই আজকে সারাদিন আমার দলের কর্মীদের সঙ্গে বা রিজিনগরের বিভিন্ন বুথে ঠিক কী কী ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়ে আমার কাছে বিন্দুমাত্র কোনো খবর বা আপডেট নেই। আমি এখন বাড়ি না গিয়ে সরাসরি আমার কর্মীদের কাছে যাব এবং তাঁদের খোঁজখবর নেব।” হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রিজিনগরের মানুষের মনে এখন ১টি বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে বিরোধীদের দাবি যে পুলিশ শাসক দলের হয়ে ভোট লুঠ করেছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরকে আটকে রেখে পুলিশের ভোট পরিচালনা করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে রিজিনগরের ফলাফল যে অত্যন্ত চমকপ্রদ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেআগামী ৯ই অক্টোবর মেগা গণনার দিন এই সমস্ত রাজনৈতিক নাটকের চূড়ান্ত যবনিকা পতন হবে।



