Modern Parenting Lifestyle: বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যস্ততা থেকে সন্তানকে দূরে রাখার সঠিক উপায়
Kolkata: বর্তমান সময়ে বাবা-মায়ের পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণ এবং তাঁদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইলের সবচেয়ে গভীর প্রভাব পড়ে তাঁদের নিজের সন্তানের ওপর। সে পুত্র হোক বা কন্যা, ১টি শিশু তার চারপাশের পরিবেশ এবং বিশেষ করে তার বাবা-মায়ের সম্পর্ক থেকেই জীবনের প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় বাবা-মায়ের ভালো লাগা এবং খারাপ লাগার যাবতীয় বোঝা অনেক সময় পরোক্ষভাবে সেই ছোট কাঁধগুলোকেই বহন করতে হয়। ইঁদুর দৌড়ের এই যুগে দাঁড়িয়ে আজ ১টি অত্যন্ত জরুরি প্রশ্ন সামনে এসেছে যে, আজকালকার এই আধুনিক মানসিকতা নিয়ে বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঠিক কতটা ভাবছেন? তাঁরা কি সত্যিই নিজেদের ব্যস্ত রুটিন থেকে কিছুটা সময় বের করে সন্তানদের মনের কথা শোনার চেষ্টা করছেন, নাকি শুধুই দামি খেলনা আর গ্যাজেট দিয়ে নিজেদের অনুপস্থিতি ঢাকার চেষ্টা করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আজ প্রতিটি আধুনিক পরিবারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
![]()
আজকের দিনে বেশিরভাগ পরিবারেই বাবা ও মা উভয়েই কর্মরত, যার ফলে তাঁদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইল হয়ে উঠেছে অত্যন্ত দ্রুত এবং যান্ত্রিক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপ, ক্যারিয়ারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক বাধ্যবাধকতা মেটাতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত ‘কোয়ালিটি টাইম’ বা গুণগত সময় দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ১টি শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবার বা ভালো স্কুলই যথেষ্ট নয়, তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাবা-মায়ের সান্নিধ্য এবং মানসিক সমর্থন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাবা-মায়েরা সারাদিনের ক্লান্তির পর নিজেদের স্ট্রেস বা রাগ অজান্তেই সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেন। এর ফলে শিশুদের মনে ১টি গভীর নিরাপত্তাহীনতা এবং একাকিত্ববোধের সৃষ্টি হয়। আধুনিক লাইফস্টাইলে বাবা-মায়েদের এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে যে, তাঁদের কাজের ব্যস্ততা যেন কোনোভাবেই তাঁদের সন্তানের শৈশবকে কেড়ে না নেয়।

তাহলে প্রশ্ন ওঠে, সন্তানদের সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য ১ জন বাবা বা মায়ের লাইফস্টাইল ঠিক কেমন হওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা-মায়ের লাইফস্টাইল হতে হবে অত্যন্ত ব্যালেন্সড বা ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে কাজের পাশাপাশি পরিবারও সমান অগ্রাধিকার পাবে। কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়িতে ফেরার পর অফিসের সমস্ত চাপ এবং দুশ্চিন্তা দরজার বাইরে রেখে আসা উচিত। বাড়িতে ১টি সুস্থ, ইতিবাচক এবং হাসিখুশি পরিবেশ বজায় রাখা বাবা-মায়ের প্রধান দায়িত্ব। ছুটির দিনগুলোতে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে মুখ গুঁজে না থেকে সন্তানদের সঙ্গে মাঠে খেলতে যাওয়া, বই পড়া বা একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখার মতো ছোট ছোট কাজগুলো সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করে। সন্তানরা বাবা-মাকে দেখেই শেখে, তাই বাবা-মায়ের নিজেদের মধ্যে শ্রদ্ধাপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাবা-মায়ের পারস্পরিক সম্মান এবং ভালোবাসাই ১টি শিশুর মনে সুস্থ সম্পর্কের ধারণা তৈরি করে।

আধুনিক প্যারেন্টিংয়ে কী কী করা উচিত, তার পাশাপাশি কী কী একেবারেই করা উচিত নয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া, চিৎকার বা একে অপরকে অসম্মান করা উচিত নয়। এর ফলে শিশুর মনে গভীর ট্রমা বা ভীতির সৃষ্টি হয়, যা তার ভবিষ্যতের সম্পর্কগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার বোঝা কখনোই সন্তানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পাশের বাড়ির শিশুটির সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করা বা কথায় কথায় তাদের ছোট করা আধুনিক প্যারেন্টিংয়ের সবচেয়ে বড় ত্রুটি। এই ধরনের আচরণ শিশুদের আত্মবিশ্বাসকে একেবারে তলানিতে নিয়ে যায়। বরং তাদের ছোট ছোট সাফল্যগুলোকে উদযাপন করা এবং ব্যর্থতায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগানোই হলো ১ জন আদর্শ বাবা-মায়ের প্রধান কাজ।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir Arrest: ‘পুলিশ ভোট করিয়েছে’, ১২ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক হুমায়ুন ।
পরিশেষে বলা যায়, সন্তান পালন কোনো নির্দিষ্ট রুটিন বা ব্যাকরণের বিষয় নয়, এটি হলো ১টি অত্যন্ত সুন্দর এবং দায়িত্বশীল দীর্ঘমেয়াদী যাত্রা। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বুদ্ধিমান, তাই তাদের সঙ্গে আচরণ করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের অনেক বেশি সচেতন এবং সহনশীল হতে হবে। ১টি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য তার শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক লাইফস্টাইলের হাজারো ব্যস্ততা এবং স্ট্রেসের মধ্যেও বাবা-মায়েদের এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে যে, তাঁদের সন্তান যেন সবসময় অনুভব করে যে তারা সুরক্ষিত এবং তাদের কথা শোনার মতো কেউ আছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের লাইফস্টাইলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং সন্তানদের বন্ধু হয়ে ওঠা—এটাই হতে পারে আজকের দিনের আধুনিক বাবা-মায়েদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। সুস্থ মানসিকতার বাবা-মাই পারে ১টি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে।




