Election Commission SIR Update: এসআইআর নিয়ে বড় স্বস্তি! বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা ফর্ম ৬-এ ফের নাম তুলতে পারবেন

Published:

Election Commission SIR Update: ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনেই চলবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ

Kolkata: ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে যে চরম বিতর্ক এবং তোলপাড় চলছিল, এবার সেই আবহেই সাধারণ ভোটারদের জন্য ১টি অত্যন্ত বড় এবং স্বস্তিদায়ক খবর সামনে এল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যদি কোনো যোগ্য এবং বৈধ ভোটারের নাম ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তবে তা একেবারেই চূড়ান্ত নয়। অর্থাৎ, বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা ফের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ১টি সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বা সিইও (CEO) দপ্তর থেকে ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি একেবারে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ, যাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে ভুগছিলেন, তাঁরা কার্যত হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। কারণ গত কয়েকদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ১টি তীব্র আতঙ্ক কাজ করছিল যে এসআইআর-এর ফলে তাঁদের নাম হয়তো চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কমিশনের এই নতুন বিজ্ঞপ্তি সেই অমূলক আতঙ্ককে সমূলে বিনাশ করল।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে একই সঙ্গে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন বা রেপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্টের যে আইনি বিধান রয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই এই গোটা সংশোধন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই এসআইআর প্রক্রিয়াটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিজস্ব কোনো পৃথক বা আলাদা বিধি কোনোভাবেই কার্যকর হবে না। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কড়া নিয়ম এবং কাঠামো মেনেই এই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলবে। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়ায় ১টি স্বচ্ছতা এবং আইনি বৈধতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক দলগুলিও যাতে এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে আর কোনো অহেতুক প্রশ্ন বা সন্দেহ প্রকাশ করতে না পারে, সেই কারণেই এই জাতীয় স্তরের আইনি কাঠামোর কথা বিজ্ঞপ্তিতে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষকে আশ্বস্ত করতেই এই কড়া প্রশাসনিক বার্তা।

West Bengal Bypoll Update: নন্দীগ্রাম ও রিজিনগর উপনির্বাচনে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে একযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি করল কংগ্রেস, মমতা ও ঋতব্রত শিবির
West Bengal Bypoll Update: নন্দীগ্রাম ও রিজিনগর উপনির্বাচনে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে একযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি করল কংগ্রেস, মমতা ও ঋতব্রত শিবির

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir Arrest: ‘পুলিশ ভোট করিয়েছে’, ১২ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক হুমায়ুন। 

এই নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, এসআইআর বা বিশেষ সংশোধনের সময় যদি কোনো যোগ্য ভোটারের নাম ভুলবশত এএসডিডি (ASDD) অর্থাৎ অ্যাবসেন্ট (অনুপস্থিত), শিফটেড (স্থানান্তরিত), ডেড (মৃত) বা ডিলিটেড (বাতিল) তালিকায় চলে যায়, তাহলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য নিজের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ১টি সহজ আইনি সুযোগ রয়েছে। ওই ব্যক্তিকে নতুন করে ফর্ম ৬ (Form 6) জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকেও বেশ সরল করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি চাইলে বাড়িতে বসে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি, যাঁরা প্রযুক্তির সঙ্গে খুব একটা সড়গড় নন, তাঁরা সরাসরি নিজেদের এলাকার বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO)-র কাছে গিয়ে সশরীরে এই ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন চাইছে যাতে কোনোভাবেই কোনো বৈধ নাগরিক তাঁর সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তাই এই অফলাইন এবং অনলাইন উভয় প্রক্রিয়াই সমান গুরুত্ব দিয়ে চালু রাখা হয়েছে।

IMG 20261003 WA00111নির্বাচন কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ফর্ম ৬-এর এই বিশেষ সুবিধা শুধুমাত্র এএসডিডি (ASDD) তালিকায় চলে যাওয়া বা নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং রাজ্যের নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রেও ঠিক এই একই ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যে সমস্ত যুবক-যুবতী সদ্য ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন এবং দেশের ১ জন যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রথমবারের জন্য ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছেন, তাঁরাও অত্যন্ত অনায়াসে এই ফর্ম ৬-এর মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন। নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রেও অনলাইন পোর্টালের পাশাপাশি সরাসরি বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র মাধ্যমে অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ এবং সুবিধা থাকবে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের ভোটারদেরও নাম তোলার ক্ষেত্রে আর কোনো রকম প্রশাসনিক হয়রানির সম্মুখীন হতে হবে না। গণতন্ত্রের উৎসবে তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতেই কমিশন এই পদ্ধতিকে এতটা সহজ এবং সাবলীল করে তুলেছে, যা সর্বস্তরে প্রশংসিত হচ্ছে।

Tripura Village Committee Election Result: ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটির মেগা নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ করে বিপুল জয় পেল তিপ্রা মথা ও বিজেপি জোট
Tripura Village Committee Election Result: ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটির মেগা নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ করে বিপুল জয় পেল তিপ্রা মথা ও বিজেপি জোট

আরও পড়ুনঃ Tripura Village Committee Election Result: ত্রিপুরা ভিলেজ কমিটির ভোটে বিপুল জয় তিপ্রা মথার! দ্বিতীয় বিজেপি, সাফ বাম-কংগ্রেস।

 

সর্বোপরি, নির্বাচন কমিশনের মঙ্গলবারের এই তাৎপর্যপূর্ণ বিজ্ঞপ্তির ফলে ১টি বিষয় একেবারে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়লে তা কোনোভাবেই চূড়ান্ত ভোটাধিকার হারানোর কারণ হবে না। নির্ধারিত আইনি পদ্ধতিতে এবং নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন জানালে পুনরায় সগৌরবে ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির সম্পূর্ণ সুযোগ থাকছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ মেনেই রাজ্যের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সাধারণ মানুষের করা এই আবেদনগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন এবং তার পরেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব অর্থাৎ নির্বাচনে যাতে কোনো যোগ্য ব্যক্তি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই সাধু উদ্যোগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই যে সমস্ত ভোটারদের নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তাঁদের আর অযথা দুশ্চিন্তা না করে অবিলম্বে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আন্তরিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

IMG 20261003 WA0013

Soumen Das
Soumen Das
Digital Sub-Editor ডেস্কে আসা খবর গুছিয়ে লেখা এবং ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে পাবলিশ করার মূল দায়িত্বে রয়েছেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img