Bhagini Nivedita Prakalpa: নারীশিক্ষার প্রসারে রাজ্য সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ, কবে থেকে চালু হচ্ছে এই মেগা প্রকল্প?
Kolkata: উৎসবের আবহে রাজ্যের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের জন্য এক বিরাট এবং যুগান্তকারী সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ প্রদান করতে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে সম্পূর্ণ নতুন ১টি সরকারি স্কিম, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প’। চলতি সপ্তাহেই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১টি বিশেষ ঘোষণা করে এই প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করেছেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর এই নতুন সরকারের তরফ থেকে নারীশিক্ষার প্রসারে এটি অন্যতম বড় ১টি পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকমহলে প্রবল উৎসাহ এবং খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই প্রকল্পের ফলে আর্থিক অনটনের কারণে যে সমস্ত ছাত্রীর মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো, তাঁরা এবার এক নতুন দিশা পাবেন। সমাজে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি আগামী দিনে এক বড়সড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদী রাজ্যের শিক্ষামহল এবং বিশিষ্টজনেরা।
এই নতুন ‘ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প’-এর প্রধান এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, এই প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র রাজ্যের অবিবাহিত কলেজ ছাত্রীরাই পাবেন। স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করা রাজ্যের সমস্ত অবিবাহিত সরকারি কলেজ ছাত্রীদের মোট ৫০ হাজার টাকা করে বিশাল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিধানসভায় পেশ করা সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেটেই রাজ্যের বর্তমান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই বিশেষ প্রকল্পটির কথা বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করেছিলেন। সেই বাজেট অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, বাংলার সমস্ত সরকারি কলেজের অবিবাহিত ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে এই ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হবে। এই যুগান্তকারী প্রকল্পটি সফলভাবে রূপায়ণ করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বাজেটে ইতিমধ্যেই ১,০০০ কোটি টাকার এক বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। সরকারের এই বিরাট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, তারা রাজ্যের মহিলাদের শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে কতটা বদ্ধপরিকর।
অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল যে, এই ৫০ হাজার টাকার বিশাল অঙ্ক কি এককালীন বা একসঙ্গে দেওয়া হবে? এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে সমস্ত সংশয় দূর করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ৫০ হাজার টাকা ছাত্রীদের একেবারে এককালীন বা একসঙ্গে দেওয়া হবে না। বরং প্রতিটি শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ১টি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অবিবাহিত কলেজ ছাত্রীদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হবে। সরকারের নির্দিষ্ট ঘোষণা এবং গাইডলাইন অনুযায়ী, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বর্ষে এবং দ্বিতীয় বর্ষে ছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে ১৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত বা তৃতীয় বর্ষে ওঠার পর ছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে ১৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, ৩ বছরের স্নাতক কোর্সে প্রথম ২ বছরে ১৭ হাজার করে মোট ৩৪ হাজার এবং তৃতীয় বছরে ১৬ হাজার—সব মিলিয়ে মোট আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ঠিক ৫০,০০০ টাকা। ধাপে ধাপে এই টাকা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, যাতে ছাত্রীরা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে না দেন এবং স্নাতক স্তর পর্যন্ত নিজেদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে পারেন।
![]()
স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো যে, ঠিক কবে থেকে এই টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে? এই বিষয়ে মন্ত্রিসভার ১টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই এই ‘ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প’ রাজ্যে পুরোদমে চালু হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, নতুন বছরের শুরুতেই জানুয়ারি মাস থেকে যোগ্য ছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই টাকা পাঠানোর কাজ শুরু করে দেবে রাজ্যের শিক্ষা ও অর্থ দপ্তর। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে এই টাকা ১টি বড়সড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন। প্রত্যন্ত গ্রামের যে মেয়েরা টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বইপত্র কেনা বা যাতায়াতের খরচ জোগাতে হিমশিম খান, তাঁদের কাছে এই সরকারি অনুদান এক পরম আশীর্বাদ হয়ে ধরা দেবে।
জানা গিয়েছে যে, রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফ থেকে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত গাইডলাইন এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এই নতুন প্রকল্পে ছাত্রীদের আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি ঠিক কী হবে, ফর্ম অফলাইনে নাকি অনলাইনে পূরণ করতে হবে, আবেদনের সঙ্গে ঠিক কী কী প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে এবং বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বা পরিবারের আয়ের মতো অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত কী কী থাকবে—সেই সব বিষয় নিয়ে এখনও কোনো সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সরকারি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের ঘোষণার ভিত্তিতে এটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, নতুন প্রকল্পটি আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। খুব শীঘ্রই দপ্তরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত রাজ্যের ছাত্রীরা এই ৫০ হাজার টাকার পুজো উপহার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। সমস্ত ছাত্রীদের এখন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা যেন নিজেদের আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত নথিপত্রগুলি আগে থেকেই গুছিয়ে এবং আপডেট করে প্রস্তুত রাখেন।




