Rejinagar By Election Results: পোস্টাল ব্যালটে বিপুল ভোট, চতুর্থ রাউন্ড শেষে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে শাখারভ সরকার
Berhampore: বহুল চর্চিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর গার্লস কলেজের গণনাকেন্দ্রে সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি রাউন্ডে চমকপ্রদ ফলাফল সামনে আসতে থাকে। গণনা যতই এগিয়ে চলেছে, ততই অন্যান্য সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দিয়ে নিজেদের জয়ের ব্যবধান ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই মেগা ভোট গণনার শুরুর দিকে রাজনৈতিক মহল মনে করেছিল যে, যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা কড়া টক্কর দেখা যাবে। কিন্তু ইভিএম (EVM) মেশিনের সিল খোলার পর থেকেই যে একপেশে ট্রেন্ড সামনে আসতে শুরু করেছে, তাতে শাসক শিবির থেকে শুরু করে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। রেজিনগরের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে বিজেপির এই অপ্রত্যাশিত বিশাল লিড গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণনাকেন্দ্রের ভেতর থেকে আসা প্রতি মুহূর্তের এই লাইভ আপডেট মানুষের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।![]()
গণনাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত একেবারে লেটেস্ট তথ্য এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ২টি রাউন্ডের ভোট গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই দেখা যায় যে, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রার্থী গোলাম নবি আজাদের থেকে প্রায় ১২ হাজারের বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সরকারিভাবে এখনও চূড়ান্ত ফলাফল বা রাউন্ড-ভিত্তিক তথ্য ঘোষণা করা না হলেও, গণনাকেন্দ্রের ভেতরের বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পর বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের এই জয়ের ব্যবধান রকেটের গতিতে বেড়ে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু ইভিএম মেশিনেই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও গেরুয়া শিবিরের এই একচেটিয়া আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর অনুযায়ী, রেজিনগর উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে পড়া মোট ভোটের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটই নিজেদের ঝুলিতে টানতে সক্ষম হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। বিজেপির এই অভাবনীয় ভোট প্রাপ্তি এবং ক্রমাগত ব্যবধান বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই গণনাকেন্দ্রের ভেতরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের ভিড় একেবারে ম্যাজিকের মতো ফাঁকা হতে শুরু করেছে।
বিজেপির এই বিশাল লিড এবং চূড়ান্ত পরাজয়ের ট্রেন্ড বুঝতে পেরেই অন্যান্য বিরোধী দলের প্রার্থীদের মধ্যে এক অদ্ভুত এবং হতাশাজনক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে ভোট গণনার ট্রেন্ড স্পষ্ট হতেই বহরমপুর গার্লস কলেজের গণনাকেন্দ্র মাঝপথেই ছেড়ে বেরিয়ে যান ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। দ্রুত গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে জানান, ‘আমি একটু বাড়ি যাচ্ছি। বিশ্রাম নেব, একটু ঘুমাব। কাল সারারাত আমার একদমই ঘুম হয়নি।’ তাঁর এই জবাব শুনে উপস্থিত সাংবাদিকরা যখন তাঁকে পাল্টা জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি আবার কখন গণনাকেন্দ্রে ফিরে আসবেন, তখন তিনি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘ঘুম ভেঙে আর আসার কোনো প্রয়োজন হয় কি না, সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন।’ সফিউজ্জামান শেখের এই মন্তব্যের মাধ্যমেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি নিজের পরাজয় মেনে নিয়েছেন এবং গণনাকেন্দ্রে অহেতুক সময় নষ্ট না করে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যের বিষয় হলো আমজনতা উন্নয়ন পার্টি বা আজুপ (AJUP) প্রার্থী গোলাম নবি আজাদের (যিনি প্রবীণ নেতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে) আচরণ। প্রায় ৪ রাউন্ড ভোট গণনা সম্পন্ন হয়ে গেলেও এদিন তিনি বহরমপুর গার্লস কলেজের ধারেকাছেও আসেননি। তাঁর এই অনুপস্থিতি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত ক্যাজুয়াল বা হালকা চালে জবাব দেন, ‘কী কারণে আমি গণনা কেন্দ্রে যাব? আমি টিভিও দেখছি সমাধানে না, আর ভোট গণনার কোনো খবরও রাখছি না। আমি এখন বাড়িতে আমার মেয়ের সঙ্গে খেলা করছি।’ অন্যদিকে, সকাল থেকে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে কোথাও দেখতে পাওয়া যায়নি মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকেও। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনিও ইভিএমের এই হতাশাজনক ফলাফল দেখার চেয়ে নিজের বাড়িতে বসে ‘বিশ্রাম’ নেওয়াটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রার্থীদের এই গণহারে ‘লা পাতা’ হয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ হয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে, রেজিনগরের মাটিতে তাঁরা একেবারেই নিজেদের জমি ধরে রাখতে পারেননি।
গণনাকেন্দ্রের এই চরম শূন্যতার মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে সকাল থেকে নিজের মাটি কামড়ে পড়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি। অন্যান্য দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা যখন হারের ভয়ে গণনাকেন্দ্র ছেড়ে পালান বা আসতেই অস্বীকার করেন, তখন প্রতিকূল ট্রেন্ড জানা সত্ত্বেও তিনি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি কথা বলেন, ‘গণনার চূড়ান্ত ফল কী হতে চলেছে, তা আমরা সকলেই খুব ভালো করে জানি। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি গণনা কেন্দ্র এখনই ছাড়ছি না।’ তাঁর এই বক্তব্য বুঝিয়ে দেয় যে, কংগ্রেস নিজেদের হার নিশ্চিত জেনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সম্মান দেখানোর চেষ্টা করেছে। সব মিলিয়ে, রেজিনগর উপনির্বাচনে পালাবদলের পর বিরোধীদের এই করুণ দশা এবং বিজেপির এই অপ্রতিরোধ্য জয় রাজ্য রাজনীতির আগামী দিনের সমীকরণকে যে অনেকটাই পাল্টে দিতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর এবং চূড়ান্ত ব্যবধান জানার অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে রাজনৈতিক মহল।




