Delhi CJP Press Conference: দিল্লিতে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’! সাধারণ মানুষকে হয়রানির বিস্ফোরক অভিযোগ সিজেপি নেতাদের

Published:

Delhi CJP Press Conference: পুলিশি হেনস্থার তোপ সৌরভ-আশুতোষের, ক্যামেরা তাক করে ঠাকুমার মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার অভিযোগ

New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এবার মারাত্মক অভিযোগ আনলেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতারা। রবিবার নয়াদিল্লিতে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের জোরালো অভিযোগ, ছাত্র ও যুব সমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে দমন করতে প্রশাসন রাজধানীতে কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ (Open Emergency) জারি করেছে। প্রতিবাদীদের আটকাতে গিয়ে পুলিশ যেভাবে গোটা শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন বন্ধ করেছে এবং ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত করেছে, তার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাধারণ নাগরিকদের এই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতেই প্রশাসন অত্যন্ত সুকৌশলে এই জনজীবন স্তব্ধ করার কৌশল নিয়েছে বলে দাবি করেছে সিজেপি নেতৃত্ব। বিরোধী দলগুলিও প্রশাসনের এই দমনমূলক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে।

UN on Delhi Protest: দিল্লিতে গণগ্রেফতারি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ, ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে কড়া জবাব ভারতের

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে বর্তমান দিল্লির পরিস্থিতির সরাসরি তুলনা টেনেছেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে, গোটা দিল্লি শহরকে এখন আক্ষরিক অর্থেই একটি পুলিশি বা সেনা ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্দোলন রুখতে শহরজুড়ে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক দেশে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সৌরভ দাস আরও মারাত্মক অভিযোগ করে বলেন, এই বিশাল পুলিশি পাহারার মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং কাশ্মীর, বাংলা ও নকশাল অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে বিমানে করে আনা বিশেষ বাহিনীও রয়েছে। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালের একনায়কতন্ত্রের আমলের পর দেশে এমন দমনমূলক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি আর কখনোই দেখা যায়নি, যা সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে পুরোপুরি খর্ব করছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে সরকারের এই বিশাল আয়োজনের পিছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Advertisement

প্রশাসন কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তোপ দেগেছেন সৌরভ দাস। তিনি জানান যে, রবিবার ছুটির দিনেও সাধারণ মানুষের জীবনে চরম ব্যাঘাত ঘটাতে অন্তত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের একাধিক বাজারঘাট জোর করে বন্ধ রাখা হয়েছে, যার সঙ্গে এই ছাত্র-যুব আন্দোলনের সরাসরি কোনো সম্পর্কই নেই। সিজেপি নেতৃত্বের মতে, প্রশাসন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করছে এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করে দিচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের মনে এই যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রতি চরম বিরূপ মনোভাব এবং অসন্তোষ তৈরি হয়। এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য রাজনৈতিক কৌশল বলে তাঁরা দাবি করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের নিত্যদিনের যাতায়াত বন্ধ করে সরকার আসলে নিজেদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে বলে কটাক্ষ করেন তাঁরা।

Dhruv Rathee Released: ‘আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল’, ছাড়া পেয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে তোপ ধ্রুব রাঠীর

সাংবাদিক সম্মেলনের অন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি পুলিশের চরম অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। শনিবার আটক থাকাকালীন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমার মৃত্যু সংবাদ পুলিশ যেভাবে তাঁকে দিয়েছে, তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন আশুতোষ। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ অত্যন্ত অমানবিক এবং অসংবেদনশীলভাবে চারপাশ থেকে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন তাক করে অভিজিৎকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দেয়, যা একজন মানুষের গভীর ব্যক্তিগত শোককে কার্যত একটি প্রহসন বা তামাশায় পরিণত করেছে। দেশের রাজধানীর মতো একটি জায়গায় পুলিশ বাহিনীর এমন অমানবিক আচরণ চরম লজ্জাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদিও দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, মানবিকতার খাতিরে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গেই তাঁকে খবর দেওয়া হয়েছিল এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশি সেই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আশুতোষ।

Advertisement

উল্লেখ্য, শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে এক চরম রাজনৈতিক সংঘাত এবং নজিরবিহীন ধরপাকড় দেখা যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই জমায়েত রুখতে প্রশাসন গাজিপুর সীমান্তে ব্যারিকেড বসানো থেকে শুরু করে মেট্রোর গেট বন্ধ করার মতো একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয়। পুলিশের এই ব্যাপক ধরপাকড়ে আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সিপিআই(এম) নেতা পিনারাই বিজয়নের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব-সহ প্রায় ১,০০০ মানুষকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল। যদিও পুলিশ জানিয়েছে যে, সিজেপি নেতারা ছাড়া বাকি সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সিজেপি, এআইওয়াইএফ, এসএফআই-এর মতো ছাত্র সংগঠনগুলি লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়ায় আগামী দিনেও এই কড়া পুলিশি নিরাপত্তা জারি থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। দিল্লির রাজপথে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায় সেটাই এখন দেখার।IMG 20261003 WA0013

Taniya Roy
Taniya Roy
Taniya Roy (Asst. Editor) Website Management, Page:3 & Cultural News, Semi Political News Maker and mainly Social Media Publisher.

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img