Abhishek Banerjee Summons: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে পুলিশের তলব, ‘পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকে’, সময় চেয়ে বার্তা তৃণমূল নেতার
Kolkata: ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের তলবে সাড়া দিয়ে সোমবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে পুলিশের আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দিয়ে এসেছিলেন এবং সোমবার সকালেই তাঁকে থানায় সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে থানায় উপস্থিত না হয়ে তিনি পুলিশের কাছে একটি ইমেল পাঠিয়ে নিজের অনুপস্থিতির কারণ স্পষ্ট করেছেন। ইমেলে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে। রাতারাতি নোটিশ দিয়ে পরের দিন সকালে ডেকে পাঠানো হলে তাঁর পক্ষে হাজিরা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে এবং পুলিশি তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শেক্সপিয়র সরণি থানায় পাঠানো ওই ইমেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আইনি অধিকার এবং পেশাগত দায়বদ্ধতার কথা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি ওই বার্তায় স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে, তিনি দেশের সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য এবং সেই কারণে তাঁর প্রতিদিনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মসূচি থাকে। ১১ অক্টোবর তাঁকে একটি নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে ঠিক তার পরের দিনই অর্থাৎ ১২ অক্টোবর সকালে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। অভিষেক তাঁর ইমেলে দাবি করেছেন, এত কম সময়ের নোটিশে পূর্বনির্ধারিত সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে থানায় হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে বাস্তবিক কারণেই সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে এভাবে রাতারাতি হাজিরার নির্দেশ দেওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ ‘একতরফা, স্বেচ্ছাচারী এবং অযৌক্তিক’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। নতুন করে নোটিশ দিয়ে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় হাতে রেখে যেন তাঁকে পরবর্তী তলব করা হয়, সেই অনুরোধও পুলিশকে করেছেন তিনি।
নিজের ইমেলে তলব প্রক্রিয়ার সমালোচনা করলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে এ কথাও আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ায় সব রকম সহযোগিতা করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু তার জন্য তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে বলে তিনি শর্ত রেখেছেন। এই ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অভিষেককে এর আগেও তলব করা হয়েছিল এবং সেই সময় তিনি থানায় গিয়ে হাজিরাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীরা তাঁকে আরও একবার জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন বোধ করায় গত বুধবার নোটিশ নিয়ে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে হাজির হয়েছিল পুলিশ। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকায় তাঁর বাড়িতে পুলিশের নোটিশ গ্রহণ করার মতো কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বাধ্য হয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সেদিন খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়েছিল। এরপর গত শনিবার দিল্লি থেকে নিজের শহরে ফেরেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর রবিবার সেই একই নোটিশ ফের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসে পুলিশ, যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের এই অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটল।
এই পুরো পুলিশি তলব এবং আইনি টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৭ অগস্টের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই দিন ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে একটি বিশাল বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলমাল এবং ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে যে, পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা জোর করে ভবনের ছাদে উঠে তৃণমূল কংগ্রেসের নামাঙ্কিত ওই বিলবোর্ডটি খুলে দেন। প্রশাসনের তরফ থেকে সেই সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ওই বিলবোর্ডটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিল, যা এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারত। কিন্তু পুলিশের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সাংসদের অনুগামী এবং তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের বচসা এবং হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এই অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ৩টি পৃথক এফআইআর (FIR) রুজু করে তদন্ত শুরু করে, যার রেশ এখনও চলছে।
২৭ অগস্টের সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিলবোর্ড বিতর্ক কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি। প্রশাসনের তরফ থেকে বিলবোর্ডটি খুলে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা ঠিক একই জায়গায় তৃণমূলের নামাঙ্কিত নতুন একটি ব্যানার পুনরায় টাঙিয়ে দেন, যা পুলিশের নির্দেশিকার প্রতি একপ্রকার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। সেই দিনের ওই বিশৃঙ্খলার ঘটনা সংক্রান্ত এফআইআর-এর ভিত্তিতেই পুলিশ এই মামলার একেবারে গভীরে পৌঁছতে চাইছে এবং সেই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে তদন্তকারী দল। রাজ্যের শাসক দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে পুলিশের এই বারবার তলব করার ঘটনা প্রশাসনিক মহলে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, ঠিক তেমনই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪৮ ঘণ্টা সময় চাওয়ার এই নতুন শর্তের পর শেক্সপিয়র সরণি থানা এবার পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কবে নতুন করে তাঁকে নোটিশ পাঠায়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।



