Noida Dog Attack: চোখের সামনে সন্তানতুল্য পোষ্যের মর্মান্তিক মৃত্যু, থানায় অভিযোগ দায়ের মালকিনের
Noida: পোষ্যপ্রেমীদের বুক কেঁপে ওঠার মতো এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের নয়ডা শহরের একটি নামী আবাসন। প্রিয় পোষ্যকে সঙ্গে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়ার পরই এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় এক মহিলাকে। তাঁর চোখের সামনেই একটি সুবিশাল ও হিংস্র গ্রেট ডেন প্রজাতির কুকুর আক্রমণ চালায় তাঁর আট বছরের ছোট্ট পাগ প্রজাতির পোষ্য গোগোকে। কোনোভাবেই রক্ষা করা যায়নি অবলা প্রাণীটিকে, ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় গোগোর। সোশ্যালে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আবাসনের অন্দরে বড় প্রজাতির পোষ্যদের নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ফের বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার সেক্টর ৯৩বি এলাকার গ্র্যান্ড ওম্যাক্স (Grand Omaxe) সোসাইটির সুরক্ষিত চত্বরে। পেশায় ওয়েডিং প্ল্যানার নমিতা নামের ওই মহিলা গত রবিবার সকালে তাঁর আট বছরের অতি আদরের পাগ গোগোকে নিয়ে প্রতিদিনের মতো মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই আচমকা একটি কালো রঙের বিশালকায় গ্রেট ডেন কুকুর কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সিসি ক্যামেরা ধরা পড়া ভিডিও ফুটেজে পরিষ্কার দেখা গেছে যে আক্রমণকারী কুকুরটির মালিকও তাকে আটকানোর বা টেনে সরানোর সামান্যতম চেষ্টা করেননি। মুহূর্তের মধ্যে গ্রেট ডেনটি ছোট্ট গোগোর পিঠে ও শরীরে মারাত্মকভাবে কামড় বসিয়ে দেয় এবং মাটিতে ফেলে ক্ষতবিক্ষত করতে শুরু করে। নিজের সন্তানতুল্য পোষ্যকে বাঁচাতে নমিতা নিজে আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং হামলাকারী কুকুরটিকে দূরে সরানোর চেষ্টা চালালে তাঁকেও আক্রমণ করার চেষ্টা করা হয়, যার জেরে তিনি মাটিতে ছিটকে পড়ে যান।

মালিক নমিতা জানিয়েছেন যে চেন্নাই থেকে মাত্র তিরিশ দিন বয়সের একটি ছোট্ট ছানা হিসেবে গোগোকে তিনি নিজের পরিবারে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর দুই ছেলে বিদেশে থাকার কারণে গোগোই ছিল তাঁর কাছে সন্তানের সমান এবং তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। চোখের সামনে এমন নৃশংসভাবে গোগোর প্রাণ চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়া নমিতা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই একই গ্রেট ডেন কুকুরটি এর আগেও একাধিকবার ছোট গোগোকে আক্রমণ করেছিল এবং প্রায় সাত মাস আগে অন্য আরেকটি পোষ্যের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। এই বিষয়ে ইতিপূর্বেও আবাসনের অন্য বাসিন্দারা এবং নমিতা নিজে বহুবার সোসাইটি কর্তৃপক্ষ ও মালিকের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
রবিবার সকালের এই ভয়ানক কাণ্ডের পর আবাসনেরই বেশ কয়েকজন সাহসী বাসিন্দা ছুটে এসে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন গোগোকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী একটি পশু হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর জানান যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত থাকার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই গোগোর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে ছোট্ট পাগটির শরীরে অসংখ্য কামড়ের গভীর দাগ ছিল, যা এই আক্রমণের ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। রবিবার সন্ধ্যায় সমস্ত নিয়ম মেনে গোগোর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও সুবিচারের দাবিতে সোমবার নমিতা স্থানীয় থানায় ওই গ্রেট ডেন কুকুরটির মালিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এই নৃশংস ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন বড় শহরের লাক্সারি আবাসনগুলিতে পোষ্য কুকুরের নিরাপত্তা, লাইসেন্সিং এবং বড় জাতের হিংস্র কুকুর রাখার নিয়মাবলী নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অনেক আবাসনেই নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বড় প্রজাতির কুকুরগুলিকে উপযুক্ত মাযল বা মুখবন্ধ ছাড়া খোলা চত্বরে ঘুরতে দেওয়া হয়, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ ছোট পোষ্য ও সাধারণ মানুষকে। অবহেলা এবং উদাসীনতার জেরে একটি নিরপরাধ প্রাণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ নেটিজেন ও পশুপ্রেমীরা। আগামী দিনে এই ধরনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে প্রশাসন ও আবাসন কমিটিগুলি কতখানি কঠোর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




