Makhi Janta Party Formed: প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে ব্যঙ্গ করে আত্মপ্রকাশ ‘মাছি জনতা পার্টি’র, তিন দিনেই ঝড় তুলল সোশ্যাল মিডিয়ায়
রিপোর্ট: তানিয়া রায়
New Delhi: দিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ এবং তার জেরে নেওয়া কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক ময়দানে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশবাসী। সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার আত্মপ্রকাশ করল সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাছি জনতা পার্টি’ বা এমজেপি (MJP)। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে দলটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী রূপ নিয়েছে।
কিছুদিন আগে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় রাজধানীতে যে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও ব্যারিকেডের সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা গড়ায়। সেই মামলার শুনানি চলাকালীন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেছিলেন যে, একটি ছোট বিষয় নিয়ে কাজ হাসিল করতে গিয়ে বড় করে হাতুড়ি চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই—যা সাধারণ ভাষায় ‘মাছি মারতে হাতুড়ি না চালানোর’ প্রবাদের সঙ্গেই তুলনীয়। বিচারপতির এই তির্যক ও রূপক মন্তব্যটিকে ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী অর্থে গ্রহণ করেই কৌতুক ও বাস্তবের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে এই নতুন রাজনৈতিক দল।

সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ‘মাছি জনতা পার্টি’র মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন আরিয়ান নামের এক তরুণ ছাত্র। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমে এই দলের ফলোয়ার্সের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩০ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যা রাজনৈতিক মহলে দারুণ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এমজেপি-র পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খোলা প্রশ্ন রেখে বলা হয়েছে যে, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন দেশে সাধারণ নাগরিকদের কি এক দিন ‘আরশোলা’ এবং অন্য দিন ‘মাছি’ বলে অপমানিত হতে হবে? দলটির স্পষ্ট দাবি, তারা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা বা জোটে বিশ্বাস করে না, বরং সাধারণ মানুষের হারানো মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই তাদের এই লড়াই।
তৈরি হওয়ার পরেই দলের পক্ষ থেকে তাদের মূল আদর্শ ও স্লোগান ঘোষণা করা হয়েছে—‘তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য এবং তরুণদের।’ তবে ককরোচ জনতা পার্টির মতো বড় মাপের কোনো রাজপথের আন্দোলনে এই নতুন দল এখনই ঝাঁপিয়ে পড়বে কি না, সে বিষয়ে তারা চূড়ান্ত কিছু জানায়নি। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে সিজেপি এবং বামনেত্রী নেহা বোরাকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে এমজেপি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা নেহার লড়াইয়ের সাহসিকতার প্রশংসা করে জানিয়েছে যে গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত জরুরি, তবে যাবতীয় আন্দোলন সবসময় দেশের প্রচলিত আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া উচিত। সিজেপির সঙ্গে ভবিষ্যতে হাত মেলানোর চিন্তাভাবনাও তাদের রয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রধান বিচারপতির একটি ছোট্ট মন্তব্যকে হাতিয়ার করে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে এই নতুন রাজনৈতিক সত্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তা আগামী দিনের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। একদিকে তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষা এবং অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মারফতে রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন—সব মিলিয়ে ‘মাছি জনতা পার্টি’র উত্থান জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভার্চুয়াল দুনিয়ার এই বিপুল সমর্থনকে মাটিতে নামিয়ে দলদুরস্ত সাংগঠনিক রূপ দিতে তরুণ প্রতিষ্ঠাতা কতটা সফল হন।




