Abhijeet Dipke Challenges Narendra Modi: ‘দম থাকলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন’, সিজেপি নেতাদের তিহাড়বাস নিয়ে মোদিকে সরাসরি আক্রমণ অভিজিৎ দীপকের
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে তিহাড় জেলে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পারদ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই গ্রেফতারি ও প্রশাসনিক দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করে সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সিজেপি প্রধান তথা প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি প্রকাশ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘কাপুরুষ’ বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি দাবি করেছেন যে দেশের মাটিতে তেরঙ্গা ওড়ানোর মতো সাংবিধানিক অধিকারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জেরে তিনি আদতে এই পদের যোগ্যই নন। বিরোধীদের এই লাগাতার আক্রমণ এবং তীব্র সমালোচনার জেরে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে গণমাধ্যমের সামনে এবং সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে দলের দুই শীর্ষ নেতা যন্তর মন্তরে যাওয়ার সময় থেকেই জানতেন যে তাঁদের জেলে যেতে হতে পারে, তবুও তাঁরা পিছু হটেনি এবং তেরঙ্গা ওড়ানোর মতো দেশপ্রেমের কাজ করেছেন। নরেন্দ্র মোদির জমানায় আজ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করাও একপ্রকার আইনভঙ্গের সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন যে, যদি সত্যিই হিম্মত বা দম থাকে তবে লুকোচুরি না করে বা পুলিশের আড়ালে না লুকিয়ে সরকারিভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে দেশে এখন ভিন্নমত পোষণ বা আন্দোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়ে কেবল নির্দিষ্ট কিছু স্লোগানই চালু রাখার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক দেশের লক্ষণ হতে পারে না।

এই ঘটনার রেশ ধরে দলের অপর নেতা অজিনক্য শিন্ডেও অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শকে সামনে রেখেই এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যেমন ব্রিটিশ আমলে তেরঙ্গা ওড়ানোর অপরাধে কারাগারে পাঠানো হতো, আজ ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের আমলেও জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করার জন্য যুবসমাজকে জেলে পুরে রাখা হচ্ছে। সিজেপি নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ধরনের দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করে তাঁদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না এবং সৌরভ ও আশুতোষ এই আন্দোলনের মূল মুখ হওয়ায় তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে। রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দেশের অন্যান্য বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতারའাও এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সিজেপি নেতাদের এই তীব্র আক্রমণ ও প্রতিবাদের জবাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) রাজ্য নেতা দেবজিৎ সরকার কড়া ভাষায় পালটা তোপ দেগেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে জাতীয় পতাকা ওড়ানো বা উৎসব পালন করা কখনই অন্যায় হতে পারে না, কিন্তু জাতীয় পতাকাকে একটি রাজনৈতিক ঢাল বা আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। তাঁর মতে, সাংবিধানিক পদগুলিকে এবং আদালতের চেয়ারকে বিতর্কিত করার জন্য একটি বিশেষ মহল বৈদেশিক শক্তির মদতে এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা দেশের অখণ্ডতার পরিপন্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই জল গড়াচ্ছে অনেক দূর পর্যন্ত এবং আগামী দিনে এই আন্দোলন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে।

সব মিলিয়ে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার তিহাড় জেলবাস এবং তার পরবর্তীতে অভিজিৎ দীপকের এই চরম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে এক মারাত্মক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে সংবিধান প্রদত্ত প্রতিবাদের অধিকার এবং অন্যদিকে প্রশাসনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ—এই দুইয়ের দ্বৈরথে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং সিজেপির ভবিষ্যৎ কর্মসূচির দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকার বজায় রাখার লড়াইয়ে এই সংঘাত আগামী দিনে কোন রূপ নেয়, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।




