TVK INDIA Bloc Debut: ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে যোগ দিলেও কেন বিজেপিকে আক্রমণ করল না বিজয়ের দল টিভিকে? নেপথ্য কারণ ঘিরে জল্পনা
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Chennai: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন দল গড়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকেই নানা রাজনৈতিক সমীকরণে হাঁটছেন তারকা রাজনীতিবিদ সি জোসেফ বিজয়। সম্প্রতি কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া (INDIA) জোটে তাঁর দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগম (TVK) আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হলেও, দিল্লির শাসক দল বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করার ক্ষেত্রে বিজয়ের দলের এই অতি-সতর্ক ও মাপা অবস্থান এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে চেন্নাইয়ে আয়োজিত এক বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিলেও, বিজয়ের দল যেভাবে দূরত্ব বজায় রেখে হেঁটেছে তা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চেন্নাইয়ের এগমোর এলাকার রামাদা সার্কেলে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সমাবেশে কংগ্রেস ও বিভিন্ন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও, টিভিকে দলের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র স্কুল শিক্ষামন্ত্রী এ রাজমোহনকে পাঠানো হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সেই সমাবেশে টিভিকে-র কোনো শীর্ষ নেতা বা সাধারণ কর্মী তো উপস্থিত ছিলেনই না, এমনকি জোটের অন্য শরিকদের দলীয় পতাকার ভিড়ে বিজয়ের দলের একটিও পতাকা সেখানে দেখা যায়নি। দলের এই সীমিত ও নামমাত্র উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দিল্লি বা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর কোনো ঝুঁকি এই মুহূর্তে নিতে চাইছে না বিজয়ের নেতৃত্ব।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মন্ত্রী রাজমোহন ভোটদানের অধিকার রক্ষা এবং বি আর আম্বেদকরকে স্মরণ করে এসআইআর প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করলেও, তাঁর পুরো বক্তৃতায় একবারের জন্যও ‘বিজেপি’ বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উচ্চারিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—প্রথমত, বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি সংখ্যালঘু সরকার হওয়ায় দিল্লির কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে জড়িয়ে নিজের স্থায়িত্বকে বিপদের মুখে ফেলতে চাইছে না। দ্বিতীয়ত, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক এআইএডিএমকে দল ভাঙিয়ে বিধায়ক টানার সাম্প্রতিক গুঞ্জনও এই সতর্কতার অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ এবং ঠিক তার পরেই চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে জোড়া ছবি তোলার মাধ্যমে বিজয় জাতীয় রাজনীতির দুই মেরুর সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিয়েছিলেন। একদিকে ডিএমকে যখন ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার মতো বড় পদক্ষেপ নিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে বিজয়ের এই সতর্ক পদার্পণ দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। জোটের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনের ময়দানে সরাসরি গা ভাসাতে নারাজ টিভিকে নেতৃত্ব আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে কতটা আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, ইন্ডিয়া জোটে যোগদানের পর প্রথম কোনো বিরোধী যৌথ কর্মসূচিতে টিভিকে-র এই ‘নরম গরম’ অবস্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অদ্ভুত ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। একদিকে জোটের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদিকে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে বড় রকমের সংঘাত এড়িয়ে চলা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখেই নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে চাইছে বিজয়ের দল। আগামী দিনে রাজ্যের স্থানীয় রাজনীতি এবং জাতীয় স্তরের জোটে এই কৌশলী অবস্থান কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা সময়ই বলবে।




