Neha Bora Detained: কনট প্লেসে তেরঙা মিছিলে যাওয়ার পথে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক আইসা প্রধান নেহা বোরা
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: রাজধানীর বুকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। নির্ধারিত ‘লেহরা দো তিরাঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা উত্তোলন মিছিলে অংশ নিতে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের দিকে যাওয়ার পথেই দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসা (AISA)-এর প্রধান নেহা বোরা। মধ্য দিল্লির অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা মান্ডি হাউস চত্বর থেকে তাঁকে আটক করা হয়, যা ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। হাজারো নিরাপত্তা কর্মী, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ক্রু এবং বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে সেই এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। প্রশাসনের তরফ থেকে আগে থেকেই কড়া নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৪ ধারা জারি করা সত্ত্বেও ছাত্রনেত্রীর এই ধরনের প্রতিবাদী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে যে, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে এই কর্মসূচি আয়োজনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এর আগে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ঘটনার দিন সকালে প্রায় কুড়ি জনেরও বেশি দিল্লি পুলিশ কর্মী জহুরওয়াল এলাকায় অভিজিৎ দীপকের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন এবং তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস ধরান। ওই নোটিসে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এই ধরনের কোনো মিছিল বা জমায়েত সাধারণ মানুষ, পথচারী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের স্বাভাবিক চলাচল এবং মৌলিক অধিকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই এই কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা অনড় থাকায় পুলিশ কঠোর হাতে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ময়দানে নামে।

মান্ডি হাউস চত্বরে যখন নেহা বোরাকে আটক করা হয়, তখন সেখানে এক চরম হাঙ্গামার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। চারপাশ থেকে ঘিরে থাকা পুলিশ কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আইসা প্রধানকে আটক করার সময় উপস্থিত জনতা ও ছাত্রছাত্রীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ির সামনে বসে পড়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই চত্বরে তীব্র যানজট ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত কয়েক দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর রাজপথে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলি। এর আগে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল এবং সেখানে পতাকা ওড়ানোর অপরাধে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছিল। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই এই ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কনট প্লেস কোনো অনুমোদিত প্রতিবাদস্থল নয়, এবং অনুমতি ছাড়া এ ধরনের জমায়েত কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

সব মিলিয়ে, জাতীয় রাজধানীতে তেরঙা মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ছাত্র-আন্দোলনকারীদের এই সংঘাত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে যখন বিরোধীরা সরকারের দমনপীড়ন নীতি ও অঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন প্রশাসনও যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আগামী দিনে এই ছাত্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। রাজধানীর বুকে এই লাগাতার টানাপোড়েন আগামী জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




