Shrirampur Durga Puja pandal closed: চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পরেই বড় পদক্ষেপ হুগলি প্রশাসনের, বন্ধ হলো শ্রীরামপুরের ৭০ ফুট উঁচু মণ্ডপ
রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ
Shrirampur: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ঘটে যাওয়া বেনজির ও মর্মান্তিক পদপিষ্টের দুর্ঘটনার পর চরম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল হুগলি জেলা প্রশাসন. কলকাতার ওই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবার রাতেই পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীরামপুরের ঐতিহ্যবাহী নেহরু নগর সর্বজনীনের প্রায় ৭০ ফুট উঁচু বিশালাকার মণ্ডপটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. প্রশাসনের এই কঠোর ও দ্রুত নির্দেশকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান জানিয়ে পুজো কমিটির উদ্যোক্তারাও অবিলম্বে মণ্ডপে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন. উৎসবের আনন্দ ও উল্লাসের মাঝে মানুষের জীবনের মূল্য যে অনেক বেশি, তা উপলব্ধি করেই এই নজিরমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.
চলতি বছরে ৭৭তম বর্ষে পা দেওয়া শ্রীরামপুরের নেহরু নগর সর্বজনীনের দুর্গাপুজো সবসময়ই এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকে. এ বছর তাঁদের আকর্ষণীয় থিম ছিল ফাইবারের তৈরি চোখধাঁধানো ‘কৈলাসে মা দুর্গা’, এবং এই সুবিশাল মণ্ডপটির উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট হওয়ায় পুজোর শুরু থেকেই প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছিল. কিন্তু ঠিক সেই সময়েই কলকাতার চোরবাগানে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং প্রশাসনের টনক নড়ে. সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপদ বা ঝুঁকি এড়াতেই হুগলি জেলা প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শ্রীরামপুরের এই জনপ্রিয় মণ্ডপটি বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করে.

প্রশাসনের এই নির্দেশ পাওয়ার পর পুজো কমিটির সম্পাদক সুরজিৎ দাস ও কমিটির সদস্য চঞ্চল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, কলকাতার চোরবাগানের এই দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক. তাঁদের পুজো মণ্ডপেও উদ্বোধনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম হচ্ছিল, কিন্তু জননিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া উচিত বলেই প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ তাঁরা নিঃশর্তে মেনে নিয়েছেন. উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার দিকটি বিচার করে প্রশাসন অনুমতি দিলে হয়তো পরবর্তীতে মণ্ডপটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে, তবে আপাতত মানুষের সুরক্ষাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার.
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পুজোপ্রেমী মানুষদের একাংশের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তাঁরা সাধুবাদ জানিয়েছেন. চোরবাগানের বিপর্যয় বুঝিয়ে দিয়েছে যে একটুখানি অসাবধানতা বা ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা কীভাবে একটা আনন্দময় উৎসবকে চিরতরে বিষাদে পরিণত করতে পারে. শ্রীরামপুরের নেহরু নগর মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়ার এই ঘটনা রাজ্যের অন্যান্য পুজো কমিটিগুলিকেও অতিরিক্ত সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের বার্তা দিচ্ছে.

সব মিলিয়ে, কলকাতার চোরবাগানের ট্র্যাজেডির পর হুগলি প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে. উৎসবের কদিন প্যান্ডেল হপিংয়ের উন্মাদনা যতই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা যে প্রশাসন এবং পুজো উদ্যোক্তাদের যৌথ দায়িত্ব, শ্রীরামপুরের এই ঘটনা তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল.




