Chorbagan Stampede Investigation: চোরবাগান বিপর্যয়ের পর বড় সিদ্ধান্ত! ভিআইপি গেট তুলে দিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে জোর, তদন্ত দল থেকে বাদ কলকাতা পুলিশ
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Kolkata: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ঘটে যাওয়া বেনজির ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, যার জেরে এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত বড় পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার ভবানী ভবনে উচ্চপর্যায়ের পুলিশকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সমস্ত বড় পুজো মণ্ডপগুলির ভিআইপি গেট বা বিশেষ প্রবেশদ্বার পুরোপুরি তুলে দেওয়া হতে পারে। গত রাতের ওই ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চারপাশে যখন তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের কঠোর ও জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের বার্তা দেওয়া হলো।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, চোরবাগান কাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য যে বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হচ্ছে, সেখান থেকে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পৌরসভাকে সম্পূর্ণভাবে বাদ রাখা হয়েছে। কারণ হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ঘটনার দিন কর্তব্যে গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্তের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে তদন্ত কমিটিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর, ডিজিপি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, এবং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটি কলকাতা হাইকোর্টের কোনো বর্তমান বিচারপতির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এই বিষয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অনুরোধ পাঠাবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব।
![]()
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও পুজো কমিটির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি গত দুবছর ধরে পুজোর সময়ে সাময়িকভাবে নিয়োজিত হোমগার্ডদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন প্রবল বৃষ্টির সময় দর্শনার্থীদের লাইন আলাদা করে রাখার জন্য যে দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল, আকস্মিক বৃষ্টির জেরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিশদ তদন্ত চলছে। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই সমস্ত হোমগার্ডদের নামের তালিকাও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছে যাতে গাফিলতির সঠিক উৎস খুঁজে বের করা যায়। বিরোধীদের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন রাজনৈতিক আক্রমণের তীব্র জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অতীতে ঘটে যাওয়া দার্জিলিংয়ের হড়পা বান কিংবা ২০২৫ সালের তড়িদাহত হয়ে মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আগের সরকারের আমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনাও করেছেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে আগামী দিনে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কোনোভাবেই খেলা করতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি পুজো কমিটিকে কঠোরভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। চোরবাগানের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির পর রাজ্যজুড়ে যে শোক ও প্রতিবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে পুলিশের এই একতরফা নিরপেক্ষ তদন্ত কতটা স্বচ্ছতা আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ এখন দ্রুত এই ঘটনার মূল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

সব মিলিয়ে, চোরবাগান বিপর্যয়ের পরবর্তীতে প্রশাসনের এই কঠোর রূপ এবং হাইকোর্টের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ রাজ্য রাজনীতি ও পুলিশি ব্যবস্থায় এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই মানুষের দীর্ঘমেয়াদী কান্নায় পরিণত না হয়, তার জন্য প্রশাসনকে এখন থেকে অনেক বেশি সজাগ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। আগামী দিনে এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কী তথ্য সামনে আনে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই নতুন নিয়ম কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজ্যবাসী।




