Dev reaction Chorbagan stampede: উৎসব কখনও ভয়ের কারণ হতে পারে না, চোরবাগান ট্র্যাজেডি নিয়ে কড়া বার্তা ও গভীর শোকপ্রকাশ অভিনেতা দেবের
রিপোর্ট: তানিয়া রায়
Kolkata: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও প্রবল বৃষ্টির জেরে ঘটে যাওয়া বেনজির ও মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় যখন সমগ্র রাজ্য জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ঠিক তখনই এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জোরালো বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক তথা সংসদ সদস্য দেব। দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর এই দিনগুলিতে যেখানে তিলোত্তমা শহরজুড়ে আলোর রোশনাই, ঢাকের বাদ্যি আর উৎসবের উল্লাস চলার কথা, সেখানে এই ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল গোটা টলিপাড়া তথা আপামর জনসাধারণকে নিদারুণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের পরিচালিত ও অভিনীত নতুন ছবি মুক্তির আনন্দ ও পেশাগত উত্তেজনার মাঝেও নিজ শহরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষগুলোর কথা ভেবে গভীরভাবে শোকপ্রকাশ করেছেন এই তারকা, যা তাঁর মানবিক ও দায়িত্বশীল মানসিকতারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
গত শনিবার মহাসপ্তমীর দিন চোরবাগান পুজো মণ্ডপ চত্বরে উপচে পড়া অতিরিক্ত জনস্রোত এবং আকস্মিক প্রবল বৃষ্টির জেরে যে অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে শিশু ও মহিলাসহ মোট ১৯ জন পুজোদর্শনার্থীর মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পুজোর আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদ, কান্না ও আতঙ্কে পরিবর্তিত হয়ে যায়, যা প্রশাসনিক পরিকাঠামো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুজো কমিটিগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতাকেই সকলের সামনে নগ্নভাবে উন্মোচন করেছে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার পরেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতো টলিউডের তারকারাও গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেন, এবং সেই শোকবার্তা ও প্রতিবাদের তালিকায় সবার উপরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেতা দেব।

নিজের অফিসিয়াল সমাজমাধ্যমের পাতায় মনের গভীর বেদনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেতা দেব অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, উদ্যাপন বা উৎসব কখনওই মানুষের ভয়ের বা আতঙ্কের কারণ হতে পারে না। তিনি নিজের আবেগঘন পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে চোরবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে যা ঘটে গিয়েছে তা কেবল মর্মান্তিক নয়, বরং অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক ট্র্যাজেডি, কারণ যে সুমহান উৎসব লক্ষ লক্ষ মানুষকে আনন্দ ও মিলনের সূত্রে একত্রিত করে, তা কোনোভাবেই দুঃখ বা আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে না। এই কঠিন ও অন্ধকার সময়ে যাঁরা নিজেদের পরিবারের প্রিয়জনদের চিরকালের মতো হারিয়েছেন, সেই শোকার্ত পরিবারগুলির প্রতি তিনি তাঁর গভীর সমবেদনা ও অন্তিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন।
শুধু সমবেদনা জানিয়ে কিংবা শোকপ্রকাশ করেই থেমে থাকেননি অভিনেতা, বরং মা দুর্গার চরণে হাত জোড় করে প্রার্থনা জানিয়ে তিনি লিখেছেন যে দেবী যেন রাজ্যের সমস্ত ভক্তকে সুরক্ষিত রাখেন এবং আমাদের প্রিয় ‘সিটি অফ জয়’-এর উপর তাঁর কৃপাদৃষ্টি বজায় রাখেন। তাঁর আকুল প্রার্থনা, দেবী দুর্গার আশীর্বাদে বাংলার এই সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব যেন মানুষের কাছে কোনো দুঃস্বপ্নে বা রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতায় পরিণত না হয়ে চিরকাল আনন্দ, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ঐক্যের প্রকৃত উদ্যাপন হয়েই মানুষের মনে বেঁচে থাকে। উল্লেখ্য, চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই কলকাতা প্রশাসন ও রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসেছে এবং মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের একাধিক বড় ও জনপ্রিয় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে কিংবা ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চোরবাগান সর্বজনীনের এই অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এক গভীর ও অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যা থেকে শিক্ষা নেওয়া ছাড়া প্রশাসনের আর কোনো উপায় নেই। আনন্দের উৎসব কীভাবে সামান্য অবহেলা, অতি-উৎসাহ ও অব্যবস্থার জেরে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক নির্মম সাক্ষী হয়ে রইল। অভিনেতার এই সংবেদনশীল বার্তা এবং সাধারণ মানুষের অন্তহীন ক্ষোভ প্রমাণ করে যে আগামী দিনে যেকোনো জনবহুল উৎসবে মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টিই যে সর্বাগ্রে হওয়া উচিত, তা আজ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছে সমগ্র রাজ্যবাসী। যাঁদের প্রিয়জন এই দুর্ঘটনায় চিরতরে হারিয়ে গেছেন, তাঁদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদী কান্নার ক্ষত শুকানোর নয়, বরং এই শোক সমগ্র রাজ্যবাসীর মনে স্থায়ী দাগ কেটে গেছে।




