Bageshwar Baba Controversy: পুজোয় আমিষ খেলেই ‘পাষণ্ড’! অলৌকিকতার দাবি থেকে আইনি জট, কে এই বাগীশ্বর বাবা?

Published:

Bageshwar Baba Controversy: পুজোয় আমিষ খেলেই ‘পাষণ্ড’! অলৌকিকতার দাবি থেকে আইনি জট, কে এই বাগীশ্বর বাবা?

KOLKATA: দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ গর্গ, যিনি ‘বাগীশ্বর বাবা’ (Bageshwar Baba) নামেই বেশি পরিচিত। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, দুর্গাপুজোয় যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা নাকি ‘পাষণ্ড’ বা ‘পাখণ্ডী’। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে এই স্বঘোষিত গুরুর উত্থান ঠিক কীভাবে হয়েছিল এবং তাঁর নেপথ্যে থাকা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement Andaman Vibes

শৈশবের দারিদ্র্য ও অলৌকিকতার দাবি ঘিরে জল্পনা:
জানা যায়, মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ গর্গের। সূত্রের খবর, ছোটবেলায় চরম আর্থিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। পরবর্তীকালে নির্মোহী আখড়ার সংস্পর্শে এসে হনুমানজির নাম করে সভা করতে শুরু করেন তিনি। অভিযোগ, ধীরে ধীরে নিজের সাধারণ পরিচয় সরিয়ে রেখে তিনি দাবি করতে শুরু করেন যে, তাঁর ওপর নাকি অলৌকিক দৈব কৃপা রয়েছে। ভক্তদের মনের কথা চিরকুটে লিখে ফেলা বা জটিল রোগ সারানোর মতো তাঁর বিভিন্ন দাবি ঘিরে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তিবাদীরা। গদা এবং বিশেষ পাগড়ি পরে নিজেকে ‘বাগেশ্বর ধামের সরকার’ হিসেবে জাহির করার নেপথ্যে কি কেবলই ধর্মবিশ্বাস, নাকি মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর কৌশল? সে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকদের একাংশ।

আরও পড়ুন: Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষভোজীরা ‘পাখণ্ডী’! ফের ফতোয়া দিয়ে বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা! 

আইনি জট ও অন্ধবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ:
বাগীশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অন্ধবিশ্বাস ছড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ নতুন নয় বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তাঁর তথাকথিত ‘দিব্য দরবার’-এর নামে অবৈজ্ঞানিক প্রচার চালানোর অভিযোগে বিভিন্ন সময় একাধিক যুক্তিবাদী সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বলে খবর। শুধু তাই নয়, এর আগেও এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তক নিয়ে মন্তব্য, মহিলাদের সিঁদুর পরা বা না পরা নিয়ে ফতোয়া দেওয়া কিংবা শিরডি সাঁইবাবাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সমাজ সংস্কারের বদলে ধর্মে উন্মাদনা ছড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগও অতীতে তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়েছে বলে দাবি একাংশের।

Advertisement

রাজনৈতিক সংযোগের জল্পনা ও বাংলার মাটিতে আস্ফালন:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাগীশ্বর বাবার এই উল্কাগতির উত্থানের নেপথ্যে প্রভাবশালীদের একাংশের প্রচ্ছন্ন মদত থাকতে পারে। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় বাংলায় তাঁকে প্রকাশ্য সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমানে তাঁর মতো বিতর্কিত মন্তব্যকারী ধর্মগুরুকে রাজ্যে এনে অভ্যর্থনা জানানোর নেপথ্যে কোনও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বাংলার সংস্কৃতিকে হেয় করে তিনি যেভাবে এখানে এসে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন সমাজ।

আরও পড়ুন: Lord Hanuman Tuesday Worship: মঙ্গলবার কেন বজরংবলীর দিন? মেটে জীবনের সব সংকট! জানুন সেই অলৌকিক পৌরাণিক কাহিনি 

মানুষের বিশ্বাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে ধর্মকে ব্যবসার স্তরে নামিয়ে আনার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠছে, তা কি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন? নাকি এই ফতোয়াবাজির আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও অভিসন্ধি? বিচার করবে সময়।

Ad

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img