রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধানসভার লাইব্রেরি থেকে নেওয়া ১৯টি বই ফেরত না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। রাজ্যের বর্তমান গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ এই অভিযোগ তুলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যও সেই একই নিয়ম বহাল থাকবে। নিয়ম অমান্য করলে ভিভিআইপি তকমা দেখে কাউকেই যে রেয়াত করা হবে না, সেই বার্তাই এদিন দিয়েছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর অপরাধ:
গ্রন্থাগার মন্ত্রী বলেন, বিধানসভার লাইব্রেরির নিয়ম অত্যন্ত সাধারণ— বই নিন, পড়ুন এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত দিন। একজন সাধারণ পাঠক বই ফেরত না দিলে তাঁকে যেমন শাস্তির বা জরিমানার মুখে পড়তে হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি নতুন বাংলা গড়তে বদ্ধপরিকর, যেখানে আইনের চোখে প্রত্যেক নাগরিক সমান। সেখানে কোনও রাজনৈতিক বৈষম্য থাকবে না।
গন্থাগার মন্ত্রীর বক্তব্য:
বই ফেরত না দেওয়ার ইস্যুর পাশাপাশি সরকারি গ্রন্থাগারে আগামী দিনে কোন ধরনের বই রাখা হবে, তা নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন গৌরী শঙ্কর ঘোষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরকারি লাইব্রেরিতে রাখা হবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর মতো বই বা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর লেখা কোনো অপ্রয়োজনীয় বই সরকারি খরচে আর গ্রন্থাগারে রাখা হবে না। তাঁর দাবি, এই বইগুলি মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক স্বার্থে প্রকাশিত হয়েছিল। এর পরিবর্তে রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলিতে দেশপ্রেম, জাতীয় সংহতি এবং তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে সহায়ক এমন বই রাখা হবে।
একইসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বই প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই সেই ব্যক্তিত্ব যিনি অখণ্ড বাংলাকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি না থাকলে বাংলার একটা বড় অংশ হয়তো পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত। তাই তাঁর নিজের লেখা বই এবং তাঁকে নিয়ে লেখা বইগুলি রাজ্যের প্রতিটি সরকারি গ্রন্থাগারে আবশ্যিকভাবে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন গৌরী শঙ্কর ঘোষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বই বিতর্ক এবং লাইব্রেরি ঢেলে সাজানোর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।



