হকি বিশ্বকাপে পদক অধরাই রইল ভারতের। টুর্নামেন্টে পঞ্চম স্থানে শেষ করেছে ভারতীয় মহিলা হকি দল। কিন্তু বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গিয়ে পোডিয়ামে জায়গা না পেলেও এই পারফরম্যান্সকেই ‘ঐতিহাসিক’ সাফল্য তকমা দিয়ে দলের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করল হকি ইন্ডিয়া। আর কর্তাদের এই অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ঘিরেই ক্রীড়ামহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি দিলীপ তিরকে সমাজমাধ্যমে এই আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে লিখেছেন, “এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স আলাদা স্বীকৃতির দাবি রাখে। হকি বিশ্বকাপে মহিলা দলের স্মরণীয় সাফল্যের জন্য হকি ইন্ডিয়া গর্বিত এবং আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করছে।” ঘোষণা অনুযায়ী, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ২ লাখ টাকা এবং সাপোর্ট স্টাফদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
কর্তাদের যুক্তি, ১৯৭৪ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ভারত চতুর্থ হওয়ার পর এটাই তাদের দ্বিতীয় সেরা বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স। এ বারের বিশ্বকাপে গোটা টুর্নামেন্টে ভারত মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে। তারা চিন, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্র করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং শেষ ম্যাচে হারিয়েছে জার্মানিকে। এই পারফরম্যান্স আসন্ন এশিয়ান গেমসের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে ঠিকই, তবে সর্বোচ্চ মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে পদকহীন সমাপ্তিকে এভাবে উদ্যাপন করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে ওড়িশা সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করার পর থেকে ভারতীয় হকিতে আর্থিক সঙ্কটের কোনও জায়গা নেই। কিন্তু বিপুল পরিকাঠামো ও সুবিধা পাওয়ার পরেও বিশ্বমঞ্চে ট্রফির খরা কাটছে না। পুরুষ দল অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পেলেও বিশ্বকাপে এ বারও অষ্টম স্থানে শেষ করেছে। আর মহিলা দলও কাঙ্ক্ষিত পদক জয় করতে ব্যর্থ। ফলে ট্রফি বা পদক ছাড়াই পঞ্চম স্থানকে এভাবে সাফল্যের চূড়া হিসেবে তুলে ধরা ভারতীয় হকির ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টি ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।



