Durga Puja Anudan: বদলের বাংলায় পরিবর্তনের ছবি! অনুদান না নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘রিটার্ন গিফট’ পুজো ক্লাবগুলির
KOLKATA: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল আবেদনে সাড়া দিয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকছে বঙ্গ রাজনীতি ও শারদোৎসব। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় রাজ্য সরকারের ঘোষিত ১ লক্ষ টাকার অনুদান না নেওয়ার গণ-সিদ্ধান্ত জানাল কলকাতার একগুচ্ছ বড় ও নামী পুজো কমিটি। শুধু তাই নয়, সরকারের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাতে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ, সুরুচি সংঘ কিংবা সমাজসেবীর মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলি উল্টে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণ তহবিলে ১ লক্ষ টাকা করে ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে জমা দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছে। কলকাতার পাশাপাশি একাধিক জেলার মেগা পুজো কমিটিগুলিও ইতিমধ্যেই সরকারি অনুদান প্রত্যাহার করার কথা প্রকাশ্যে এনেছে।
মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো সমন্বয় বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছিলেন যে, যেসব বড় বাজেটের ক্লাবের এই অনুদানের প্রয়োজন নেই, তারা যেন স্বেচ্ছায় সাহায্য না নেন। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাড়া দিয়ে অনুদান বর্জন করেছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা আকালোধন, সন্তোষপুর লেকপল্লি, টালা প্রত্যয়, চোরবাগান সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সংঘ, হাতিবাগান সর্বজনীন, শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনী, বাবুবাগান এবং ফুলবাগান সর্বজনীন।

মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের প্রধান সজল ঘোষ জানিয়েছেন, “আমরা আগেও বলতাম এই টাকা গরিবের চিকিৎসা ও শিক্ষায় কাজে লাগুক। এবারও আমরা অনুদান নিচ্ছি না।” অন্যদিকে, রাজডাঙা নব উদয় সংঘের চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ এবং সুরুচি সংঘের সম্পাদক বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানান, অনুদান না নেওয়ার পাশাপাশি উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উল্টে ১ লাখ টাকা ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে। একই সুর শোনা গিয়েছে মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনী কিংবা অ্যালেন পার্কে প্রথম শুরু হওয়া কলকাতা সনাতনী সংঘের মেগাপুজোর সভাপতি শঙ্কুদেব পাণ্ডার গলায়।
পুজো কমিটির কর্তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ১ লাখ টাকার সরাসরি অনুদান না নিলেও বিদ্যুৎ বিলে ১০০ শতাংশ মকুব, পুরসভা এবং দমকল দপ্তরের যাবতীয় পরিষেবা ফি সম্পূর্ণ ফ্রিতে করে দেওয়ার যে ঐতিহাসিক নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তাতেই বড় পুজো কমিটিগুলির লাখ লাখ টাকা বেঁচে যাচ্ছে। সরকারের এই নাগরিকবান্ধব ও উৎসবমুখী সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কলকাতা ও জেলাজুড়ে সুসজ্জিত ব্যানার, হোর্ডিং ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জোয়ার উঠেছে।




