EVM data High Court: ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের, আসন্ন পুরভোটের আগে বড় স্বস্তি নির্বাচন কমিশনের
রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ
Kolkata: আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের বড়সড় একটি সমস্যার অবসান ঘটিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিভিন্ন পুরভোটে ইভিএম সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় হাজার হাজার ইভিএম মেশিন এতদিন নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষণাগারে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়েছিল, যার ফলে নতুন নির্বাচনে পরিকাঠামোগত সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আবেদন জানিয়েছিল যাতে EVM data High Court এর নির্দেশিকা অনুযায়ী এই সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলার অনুমতি দেওয়া হয়। অবশেষে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে নির্দেশ দিয়েছে যে, যে নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে সেগুলি বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত ইভিএমের পুরোনো তথ্য মুছে ফেলে তা পুনর্র্ব্যবহার করা যেতে পারে। আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশের ফলে নির্বাচন কমিশনের কাজ যেমন অনেক বেশি মসৃণ হবে, তেমনই আসন্ন পৌর নির্বাচনে পর্যাপ্ত মেশিনের ঘাটতি দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে কাঁথি পৌরসভা এবং কলকাতা পুরসভার তিনটি ওয়ার্ড ছাড়া রাজ্যজুড়ে সংরক্ষিত থাকা বাকি সমস্ত ইভিএমের আগের সমস্ত তথ্য ও ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা সম্ভব। অতীতে বিভিন্ন পুরভোটে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা, যার জেরে আইনি জটিলতায় প্রায় সাত হাজারের বেশি ইভিএম সিল করে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্ত পুরনো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন নতুন করে কোনো বড় মাপের পৌর নির্বাচন আয়োজন করতে গিয়ে মারাত্মক ইভিএম সংকটের মুখে পড়েছিল। কমিশনের আইনজীবীরা আদালতকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এই তথ্যগুলি সংরক্ষণ করে রাখলে আসন্ন পুরভোটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইভিএম পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। আদালতের সাম্প্রতিক এই রায়ের পর সেই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মেঘ কেটে গেল এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এক নতুন গতির সঞ্চার হলো।
আদালতের এই ঐতিহাসিক নির্দেশের ফলে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি নতুন ও কার্যকরী ইভিএম মেশিন সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে আসতে চলেছে, যা আসন্ন পৌরসভা ও স্থানীয় স্তরের ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বিরাট স্বস্তির বিষয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর মিলেছে যে আদালতের নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দ্রুত এই ইভিএমগুলির ডেটা ক্লিয়ার করার প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়। বিরোধী দলগুলির তরফ থেকে অতীতে ইভিএমের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হলেও আদালতের এই সুনির্দিষ্ট রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে বিচারাধীন মামলাগুলির এলাকার মেশিন বাদে বাকিগুলিতে কোনো বাধা থাকছে না। ফলে আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পৌরসভা নির্বাচনগুলিতে এই মেশিনগুলি ব্যবহার করে স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন নির্বাচন আধিকারিকরা।

হাইকোর্টের এই রায় প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে এর ফলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আগামী নির্বাচনগুলি পরিচালনা করা অনেক বেশি সহজ হবে এবং মানুষ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোটদানের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসী সুরে দাবি করেছেন যে আগামী দিনে পৌরসভাগুলিতে ভোট হলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি প্রার্থীরা বিভিন্ন কর্পোরেশনের মেয়রের আসন দখল করবেন। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলীয় নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে ভোটের স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে তাঁরা কোনো আপস করবেন না এবং বিরোধীদের যেকোনো চক্রান্তকে প্রতিহত করা হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন পুরভোটের ঠিক প্রাক্কালে ইভিএম সংক্রান্ত এই জটিল আইনি জট কেটে যাওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতি এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক স্তরে পর্যাপ্ত ইভিএম মেশিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভোট প্রস্তুতি যেমন বহুগুণ ত্বরান্বিত হবে, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ভোটের হাওয়া জোরদার হতে শুরু করেছে। আদালতের এই সুচিন্তিত রায় বুঝিয়ে দিল যে আইনি ও প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রেখেই কিভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আগামী দিনে এই মেশিনগুলি ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন কীভাবে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করে এবং রাজনৈতিক দলগুলি ময়দানে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করে, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।




