Indranil Sen ED Search: পুজোর পাসের টাকা গেল কোথায়? ইন্দ্রনীল সেনকে দীর্ঘ জেরা করে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির
Indranil Sen ED Search: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করেও এবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। আর এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। দুর্গাপুজোর বিশেষ ‘প্রিভিউ শো’-র পাস বিক্রির টাকা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির স্ক্যানারে চলে এসেছেন তিনি। পাস বিক্রির নামে তোলা বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইডি আধিকারিকরা সম্প্রতি তাঁকে প্রায় ন’ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা করেছেন। আর এই জিজ্ঞাসাবাদের পরেই এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ইডির তরফ থেকে একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক এবং চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা রাজ্যের এক শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার করা হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: Rejinagar By Election: ‘রেজিনগর সরকারের সাথেই থাকবে’, শাখারভের প্রচারে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু
ইডির জারি করা সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, জনৈক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে। ওই অভিযোগপত্রে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা ম্যাসআর্ট নামের একটি সংস্থার সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, ওই একই সংস্থার সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগকারীর দাবি, দুই হাজার বাইশ সাল থেকে শুরু করে গত প্রায় তিন বছর ধরে দুর্গাপুজোর ওই বিশেষ প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রির নামে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা পুজোর কোনো উন্নয়নমূলক কাজে না লাগিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং অন্যান্য স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইডির গোয়েন্দারা এখন সেই টাকার আসল গতিপথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

তদন্তকারীদের আরও একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি হলো, শুধুমাত্র পুজোর পাস বিক্রি নয়, সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। ইডির দাবি, কমপক্ষে পঁচাশি কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার সম্পূর্ণ নিয়ম ভেঙে ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হিসেব মেলাতে গিয়েই ইডির গোয়েন্দারা একটি সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস পান। জানা গিয়েছে, ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ নামের একটি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আচমকাই তিন কোটি আশি লক্ষ টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল। ইডির সবথেকে বড় দাবি হলো, এই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টটি থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিরিশ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হস্তান্তর করা হলো, তা নিয়েই এখন জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

যদিও ইডির এই বিস্ফোরক দাবির পর প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন যে, ওই তিরিশ লক্ষ টাকা কোনো অবৈধ লেনদেন নয়, বরং তা সম্পূর্ণ আইন মেনে রয়্যালটি বা পারিশ্রমিক হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু ইডি আধিকারিকরা তাঁর এই দাবিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। রয়্যালটি দেওয়ার উপযুক্ত নথিপত্র এবং প্রমাণ তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। পাস বিক্রির টাকা, সরকারি টেন্ডারের পঁচাশি কোটি টাকা এবং অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া নগদ টাকা—এই সবকিছুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাই এখন ইডি তদন্তকারীদের মূল চিন্তার বিষয়। এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না, অথবা অন্য কোনো প্রভাবশালীর কাছে পৌঁছেছে কি না, তা জানতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

এই দুর্নীতির তদন্তের জাল গোটাতে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইডি আধিকারিকরা কয়েকটি আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান। সেদিন সকালে কসবা এলাকায় ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি ছাড়াও পঞ্চসায়র এলাকায় ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তর বাড়িতেও আচমকা হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের মতো বিলাসবহুল এলাকার কয়েকটি ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিটি বাড়িতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে রেখেছিলেন। এমনকি সিঙ্গুরে থাকা ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়িতেও পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। এই সমস্ত তল্লাশি অভিযান শেষে প্রাক্তন মন্ত্রীকে সরাসরি সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয় এবং সেখানে তাঁকে দীর্ঘ ন’ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী দিনে এই তদন্তের জল ঠিক কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।




