Jadavpur Incident: গভীর রাতে যাদবপুরে বিজেপি নেতা ও তাঁর বন্ধুকে বাঁশ-পাথর দিয়ে ব্যাপক মারধর! প্রকাশ্যে আদি-নব্য দ্বন্দ্বের তত্ত্বও!
KOLKATA: গভীর রাতে যাদবপুরে (Jadavpur) চরম উত্তেজনা! যাদবপুর মণ্ডল-১ এর যুব সভাপতি সৌম্যদীপ সাহা (Soumyadeep Saha) এবং তাঁর বন্ধু রাতুল মণ্ডলের (Ratul Mandal) ওপর বাঁশ ও পাথর দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে আই-ব্লক থেকে লায়কা ওয়াটার ট্যাঙ্কের দিকে যাওয়ার রাস্তায়। আহতদের প্রাথমিক অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সমর্থক বলে দাবি করে এবং রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। শনিবার যাদবপুর থানায় এই মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সৌম্যদীপ।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সৌম্যদীপ জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ তিনি ও তাঁর বন্ধু ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একদল সন্দেহভাজনকে দেখতে পান। সেখানে প্রকাশ্যে মদ্যপান ও নেশা করার সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপরেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুটি বাইকে করে তাঁদের তাড়া করে পথ আটকায়। সৌম্যদীপের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তাঁকে প্রাণহানির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরই বাঁশ ও পাথর দিয়ে তাঁদের ওপর ব্যাপক মারধর শুরু হয়। এই ঘটনায় দুই মহিলাও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, যাঁরা রাতুলের দিকে পাথর ছোঁড়েন।
হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনায় সৌম্যদীপের নাক ও মুখে গুরুতর চোট লেগেছে। তাঁর নাকে ইঁট দিয়ে আঘাত করা হয় যার ফলে ঠোঁট ও মুখ কেটে যায়। অন্যদিকে তাঁর বন্ধু রাতুল মণ্ডলের মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি র*ক্তা*ক্ত অবস্থায় সংজ্ঞাও হারিয়েছিলেন। রাতেই তাঁদের প্রথমে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভোর ৫টা নাগাদ তাঁদের এম আর বাঙ্গুর (M.R. Bangur) সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
তবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য একটি রাজনৈতিক সমীকরণের কথাও রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল থেকে বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই নব্য বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে আদি বিজেপি কর্মীদের বেশ কিছু জায়গায় অন্তর্দ্বন্দ্ব বা মতানৈক্য লেগেই রয়েছে। যাদবপুরের এই রাতের ঘটনার পিছনে আদি বনাম নব্য বিজেপির সেই গোষ্ঠীকোন্দল বা অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজ করছে কি না, সেই দিকটিও চিন্তাভাবনার বাইরে রাখছে না ওয়াকিবহাল মহল। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে অবিলম্বে এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন আহতরা।



