Konnagar: কোন্নগরে বিজেপি বিধায়কের গাড়ির ধাক্কায় রক্তাক্ত মহিলা স্কুটারচালক! ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা
KOLKATA: Konnagar বা হুগলি জেলার কোন্নগর শহরে সোমবার রাতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়ংকর পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এক মহিলা স্কুটারচালক। সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ কোন্নগর পুরসভার ছ’নম্বর ওয়ার্ডের এসসি চ্যাটার্জি স্ট্রিটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ব্যস্ত রাস্তায় বিধায়কের গাড়িটি ঘোরানোর সময় আচমকা পেছনের একটি স্কুটারে ধাক্কা মারে। ওই সজোরে ধাক্কা সামলাতে না পেরে স্কুটারচালক মহিলা সোজা রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং তাঁর মাথা ফেটে যায়। খোদ একজন দাপুটে জনপ্রতিনিধির গাড়ির ধাক্কায় এক নিরীহ মহিলার এমন রক্তাক্ত হওয়ার খবরে কোন্নগর শহর জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় স্বয়ং বিধায়ক তাঁর বিলাসবহুল গাড়ির ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে এসসি চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মতো একটি অত্যন্ত জনবহুল এবং সরু রাস্তায় বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর গাড়িটি পেছনের দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁর চালক। গাড়িটি ঘোরানোর সময় আচমকা চালক সজোরে ব্রেক কষেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিধায়কের গাড়ির ঠিক পেছনেই নিজের স্কুটার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই মহিলা আরোহী। চালক ব্রেক মারতেই গাড়িটি সজোরে গিয়ে পেছনের স্কুটারটিতে ধাক্কা মারে। গাড়ির অপ্রত্যাশিত ধাক্কার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে, ওই স্কুটারচালক মহিলা নিজের ভারসাম্য রাখতে না পেরে সরাসরি পিচের রাস্তায় সজোরে ছিটকে পড়েন। রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চোখের সামনে ভিআইপি গাড়ির ধাক্কায় এক মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে দেখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীরা তৎক্ষণাৎ সেখানে ছুটে আসেন।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই ওই রাস্তায় ব্যাপক উত্তেজনা এবং হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রক্তাক্ত এবং যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা ওই মহিলাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেন। রাস্তার পাশ থেকে একটি যাত্রীবাহী টোটো ডেকে তাঁকে কোন্নগরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে যে, মহিলার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং তাঁর মাথা ফেটে যাওয়ায় প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর ক্ষতস্থানে আটটি সেলাই (Stitch) করেছেন। তবে আঘাতের মাত্রা বেশি হওয়ায় এবং মাথায় চোট থাকায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই মহিলাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই কলকাতার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় মানুষজন অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে আহত মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার জেরে স্বভাবতই কোন্নগর পুরসভার ওই নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের রাস্তাগুলি এমনিতে বেশ সংকীর্ণ, আর তার ওপর জনপ্রতিনিধিদের গাড়ি যদি এমন বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? দুর্ঘটনার ফলে মহিলার স্কুটারটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী নিজেও কিছুটা তৎপর হন। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটার পর আহত মহিলাকে দেখতে তিনি নিজেই হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি আহত মহিলার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বিধায়ক নিজে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা রাশ টানা গেলেও, তাঁর গাড়ির চালকের চরম গাফিলতি এবং বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে চালকরা কতটা অসতর্ক।
রাজ্যের সার্বিক পথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনাগুলি বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ভিআইপি বা জনপ্রতিনিধিদের গাড়ি চালকদের আরও বেশি সতর্ক এবং দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। হুগলি জেলার কোন্নগর বা উত্তরপাড়ার মতো জনবহুল শহরগুলিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নিজেদের রুটি-রুজির তাগিদে দু’চাকার গাড়ি বা স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বেরোন। সেই ব্যস্ত রাস্তায় যদি ভিআইপিদের গাড়ির দাপটে সাধারণ নাগরিককে এমনভাবে রক্তাক্ত হতে হয়, তবে তা পথ নিরাপত্তার ওপর বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছে। বিধায়কের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কোনো স্বতঃপ্রণোদিত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে আহত মহিলা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন্নগরের পারদ যে বেশ চড়েই থাকবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




