Mohun Bagan: ৮ বছরের খরা কাটিয়ে কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন সবুজ-মেরুন! ৩১তম বার খেতাব জিতে ইতিহাস গড়ল বাগান

Published:

Mohun Bagan: ৮ বছরের খরা কাটিয়ে কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন সবুজ-মেরুন! ৩১তম বার খেতাব জিতে ইতিহাস গড়ল বাগান

KOLKATA: Mohun Bagan বা মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট রাজ্যের ফুটবল প্রেমীদের জন্য এক বিশাল আনন্দের খবর নিয়ে এল। দীর্ঘ ৮ বছরের সুদীর্ঘ খরা এবং অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা ফুটবল লিগে (Calcutta Football League) চ্যাম্পিয়ন হলো মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বাংলার ফুটবলের মক্কা বলে পরিচিত ময়দানে আজ শুধুই সবুজ-মেরুন আবিরের ছড়াছড়ি। রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্যে কলকাতা লিগের একটি আলাদা আবেগ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। আর সেই আবেগের মঞ্চেই দীর্ঘ আটটি বছর পর ফের একবার নিজেদের রাজত্ব কায়েম করল বাগান ব্রিগেড। এই নিয়ে মোট ৩১তম বার কলকাতা ফুটবল লিগের খেতাব নিজেদের নামে করে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল তারা। এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর মোহনবাগান সমর্থকরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছেন। গ্যালারি থেকে শুরু করে ক্লাব তাঁবু—সব জায়গায় এখন শুধুই বিজয়ের উল্লাস। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় স্তরে আইএসএল (ISL) বা ডুরান্ড কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য এলেও, নিজেদের ঘরের মাঠের এই ঐতিহ্যবাহী ট্রফিটি বারবার হাতছাড়া হচ্ছিল। তবে এবার আর কোনো ভুল করেনি সবুজ-মেরুন শিবির। সমস্ত বাধা বিপত্তি পার করে কলকাতা লিগের মুকুট ফের নিজেদের মাথায় তুলে নিল তারা।

আরও পড়ুন: Team India: এশিয়া কাপ জিতেও মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত! আসল কারণ জানাল বিসিসিআই 

কলকাতা ফুটবল লিগের ইতিহাসে মোহনবাগানের এই চ্যাম্পিয়নশিপ এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শেষবার ২০১৮ সালে কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীর অধীনে কলকাতা লিগ জিতেছিল মোহনবাগান। তারপর থেকে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এই ট্রফিটি যেন তাদের কাছে এক অধরা মাধুরী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মাঝের এই সময়টায় কখনও প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল, আবার কখনও মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের দাপটে কলকাতা লিগ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বাগানকে। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে আইএসএল-এর ব্যস্ততা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবলের চাপে কলকাতা লিগের প্রতি শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলির কিছুটা অনীহা দেখা গিয়েছিল। মোহনবাগানও মূলত তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ বা জুনিয়র দলের খেলোয়াড়দের ওপরই কলকাতা লিগের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই অভিজ্ঞতার অভাব বা অল্প ব্যবধানের জন্য ট্রফি হাতছাড়া হচ্ছিল। তবে এবারের মরশুমে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ম্যানেজমেন্ট এক সম্পূর্ণ নতুন এবং সুপরিকল্পিত রণকৌশল নিয়ে ময়দানে নেমেছিল। জুনিয়র দলের সঙ্গে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলারকে খেলিয়ে দলটির ভারসাম্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যার সামনে লিগের অন্যান্য দলগুলি কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে।

Advertisement

এবারের কলকাতা লিগে মোহনবাগান দলের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অনবদ্য এবং ধারাবাহিক। প্রথম ম্যাচ থেকেই দলের তরুণ ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন। কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঠিক দিশানির্দেশনায় দলের আক্রমণভাগ এবং রক্ষণভাগ—উভয় ক্ষেত্রেই এক অসাধারণ সমন্বয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। দলের তরুণ স্ট্রাইকাররা যেমন বিপক্ষের জালে একের পর এক গোল জড়িয়েছেন, তেমনই ডিফেন্ডাররা নিজেদের দুর্গ অটুট রেখেছেন। মোহনবাগানের এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে দলের জুনিয়র ফুটবলারদের অদম্য জেদ এবং ট্রফি জয়ের খিদে। সিনিয়র দলের তারকারা আইএসএল এবং জাতীয় দলের ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায়, এই তরুণ ফুটবলারদের কাছে কলকাতা লিগ ছিল নিজেদের প্রমাণ করার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আর সেই সুযোগের একশো শতাংশ সদ্ব্যবহার করেছেন তাঁরা। কঠিন পরিস্থিতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁরা যেভাবে লড়াই করেছেন, তা ফুটবল বিশেষজ্ঞদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা শুধু ভবিষ্যতের তারকা নন, বরং বর্তমানের ময়দানের চ্যাম্পিয়ন।

আরও পড়ুন: Nigar Sultana: ভারতের কাছে এশিয়া কাপে লজ্জার হার, নিগারের নেতৃত্ব নিয়ে কড়া পর্যালোচনার পথে বাংলাদেশ 

এই ঐতিহাসিক জয়ের পর মোহনবাগান ক্লাব তাঁবু এবং গোটা ময়দান চত্বর কার্যত এক সবুজ-মেরুন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর নিশ্চিত হতেই গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন। একে অপরকে সবুজ-মেরুন আবির মাখিয়ে, মিষ্টি মুখ করিয়ে এবং ক্লাবের পতাকা উড়িয়ে জয়ের আনন্দ উদযাপন করেন তাঁরা। দীর্ঘ আট বছর পর ঘরের ট্রফি ঘরে ফেরায় সমর্থকদের আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। সোশ্যাল মিডিয়াতেও মোহনবাগানের এই জয় নিয়ে তুমুল চর্চা এবং শুভেচ্ছাবার্তার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ক্লাবের শীর্ষ কর্তারাও দলের এই সাফল্যে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তাঁরা তরুণ ফুটবলারদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য বিশেষ প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। সমর্থকদের মতে, আইএসএল শুরুর ঠিক মুখে কলকাতা লিগের এই মেগা জয় দলের অন্দরে এক বিপুল আত্মবিশ্বাস এবং পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার করবে। বাংলার ফুটবল মহলের ধারণা, জুনিয়র দল কলকাতা লিগ জিতে সিনিয়র দলকে যে কড়া বার্তা দিল, তা আগামী দিনে মোহনবাগানকে জাতীয় স্তরে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে সাহায্য করবে।

Advertisement Andaman Vibes

পরিশেষে বলা যায়, ৮ বছর পর মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের এই ৩১তম কলকাতা লিগ জয় বাংলার ফুটবলের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের লিগ জয়ের রেকর্ডের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল মোহনবাগান। এই ট্রফিটি শুধু একটি লিগ জয় নয়, এটি বাংলার বুকে মোহনবাগানের হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধারের এক অন্যতম বড় প্রতীক। আগামী দিনে এই তরুণ ফুটবলাররাই যে মোহনবাগানের সিনিয়র দলের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হতে চলেছেন, এই টুর্নামেন্ট তারই অকাট্য প্রমাণ দিল। ক্লাব ম্যানেজমেন্টের সঠিক পরিকল্পনা, কোচের নিখুঁত কৌশল এবং তরুণ ফুটবলারদের উদয়াস্ত পরিশ্রম—এই তিনের মেলবন্ধনেই সম্ভব হয়েছে এই ঐতিহাসিক জয়। কলকাতা লিগের এই চ্যাম্পিয়নশিপ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করল যে বাংলার ফুটবলে মোহনবাগানের রাজত্ব এখনও অটুট। এখন দেখার বিষয়, কলকাতা লিগের এই বিজয়রথ আইএসএল এবং অন্যান্য জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টেও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কীভাবে ধরে রাখতে পারে। তবে আপাতত গোটা বাংলা এবং অগণিত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা এই ৩১তম লিগ জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা।

Ad

Krishnangshuk Singha Roy
Krishnangshuk Singha Roy
দেশ ও রাজ্যের সমস্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সমসাময়িক সমস্ত Sports Beat এর দায়িত্বে। আমাদের Team এর সর্ব কনিষ্ঠ Member.

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img