Rachana Banerjee on Gyanesh Kumar: ‘বিরোধীরা কোমরে গামছা বেঁধে লড়াইয়ে নেমেছে’, জ্ঞানেশ ইস্যুতে খোঁচা রচনার

Published:

Rachana Banerjee on Gyanesh Kumar: লোকসভার নোটিসের জবাবে আরও ১৪ দিন সময় চাইল সুদীপ-কাকলিদের এনসিপিআই, দলত্যাগের জল্পনা তুঙ্গে

Kolkata: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ এবং এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের দলত্যাগ বিতর্কে এই মুহূর্তে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতি রীতিমতো সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যখন নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে গোটা দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একজোট হয়ে দিল্লির রাজপথে নেমেছে, ঠিক সেই আবহেই বিরোধীদের এই মেগা আন্দোলনকে কার্যত কটাক্ষ করলেন হুগলির এনসিপিআই সাংসদ তথা টলিউড অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় বিরোধীদের এই সম্মিলিত প্রতিবাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বিরোধীদের কাজই হলো প্রতিবাদ করা, তাই তাঁরা নিজেদের মতো করে আওয়াজ তুলছেন। তবে এই বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি ছিল, “ওনারা তো সবাই লড়ছেন। বিরোধীরা তো কোমরে গামছা বেঁধে লড়াই করতে নেমে পড়েছেন। দেখা যাক না কী সত্যি সামনে আসে।” রচনার এই ‘কোমরে গামছা’ মন্তব্যটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং বিরোধীদের তরফে এর কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে।

Advertisementবর্তমানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গোটা দেশজুড়ে এক বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র (CJP) পক্ষ থেকে আগামী ১০ই অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশের যুবসমাজ একজোট হতে চলেছে। এই একই ইস্যুতে সরাসরি রাজপথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে জাতীয় কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যেই দিল্লির রাস্তায় নেমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। পিছিয়ে নেই তৃণমূল কংগ্রেসও; খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন এবং বিরোধীদের এই সম্মিলিত মঞ্চে সুর মেলাচ্ছেন। এই চরম উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন জনপ্রতিনিধির এহেন মন্তব্য প্রমাণ করে যে, শাসক দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন ঠিক কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রচনা নিজে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে গিয়েছেন, তাই তাঁর এই মন্তব্যের নেপথ্যে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কাঁটাছেঁড়া শুরু করেছেন।

Mahalaya and Navratri Connection: রাত পোহালেই মহালয়া, রবিবার থেকে নবরাত্রি! দুর্গাপুজোর সঙ্গে এদের আসল সম্পর্ক কী?

তবে রচনার এই মন্তব্যের পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয় হলো লোকসভার সচিবালয়ের পাঠানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নোটিস। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীকে জয়লাভ করে আসা ২০ জন লোকসভা সাংসদ সম্প্রতি আচমকাই এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগদান করেছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কড়া প্রয়োগ করে ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পদ অবিলম্বে বাতিল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই লোকসভার সচিবালয় ওই ২০ জন সাংসদকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠায় এবং তাঁদের নিজেদের বক্তব্য লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষদস্তিদারের মতো প্রবীণ নেতাদের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী এখনও পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো সদুত্তর দিয়ে উঠতে পারেনি। বরং লোকসভার সচিবালয়ের কাছে চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য তাঁরা আরও ১৪ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।IMG 20261003 WA00111সাংসদ পদ বাতিলের এই ঝুলে থাকা খাঁড়া এবং সময় চেয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সাবলীলভাবে পুরো বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, “এটা সম্পূর্ণভাবে একটি দলীয় সিদ্ধান্ত। দলের তরফ থেকেই এই সময় চেয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হচ্ছে। আমরা যা কিছু করছি, তা দিল্লির সঙ্গে বিস্তারিতভাবে কথা বলেই করছি।” রচনার এই বক্তব্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এনসিপিআই শিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদরা অত্যন্ত মেপে পা ফেলছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তবে বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করছে যে, দলত্যাগ-বিরোধী আইন থেকে বাঁচতেই এই সাংসদরা সময় নষ্ট করার কৌশল অবলম্বন করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, যাঁরা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

https://banglarawaz.in/ifa-shield-final-darb%e0%a6%bfte-durand%e0%a7%87ro-modhuro-bodola-my%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bcmy%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-fainale-lalo-holudoke-hari%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-shild-jito/

এদিকে এনসিপিআই শিবিরের অন্দরেও যে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না, তার একটি বড় প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত একটি বৈঠকে। বৃহস্পতিবার খাস কলকাতায় এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদকে নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক ডেকেছিলেন প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু চরম বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, সেই বৈঠকে ২০ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র ১০ জন উপস্থিত ছিলেন, অর্থাৎ বাকি অর্ধেক সাংসদই এই বৈঠকে গরহাজির থেকেছেন। রাজনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নিয়ে পর পর চারবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে সাংসদদের একাংশ উপস্থিত হলেন না, যা এনসিপিআই শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলছে। একদিকে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে দেশজুড়ে বিরোধীদের মেগা আন্দোলন, অন্যদিকে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের খাঁড়া এবং নিজেদের দলের অন্দরে বিভাজন—সব মিলিয়ে সুদীপ, কাকলি এবং রচনার মতো সাংসদরা এখন এক চরম রাজনৈতিক চক্রব্যূহের মধ্যে অবস্থান করছেন। আগামী ১৪ দিন পর লোকসভার সচিবালয়ে তাঁরা ঠিক কী জবাব দাখিল করেন এবং সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কী রায় দান করে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহল।IMG 20261003 WA0013

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img