Rahul Gandhi Supreme Court Petition: সাক্ষাতের আর্জি খারিজের পরেই আইনি লড়াইয়ের পথে ইন্ডিয়াশিবির, শুনানির অপেক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট
New Delhi: দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে সরাসরি সাক্ষাতের আর্জি খারিজ করে দেওয়ার ঠিক একদিন পরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত বড় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং দেশজুড়ে চলা ব্যাপক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে একটি আনুষ্ঠানিক রিট পিটিশন দাখিল করেছেন রাহুল গান্ধী। এর আগে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এই ধরনের নীতিগত বিষয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে হস্তক্ষেপ করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয় এবং বিরোধীদের আইনি পথে সুপ্রিম কোর্টের বিচারবিভাগীয় দরজায় কড়া নাড়তে হবে। প্রধান বিচারপতির সেই পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই রাহুল গান্ধী আইনজীবী এস. প্রসন্নর মাধ্যমে এই হাইভোল্টেজ মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করেছেন, যার ডায়েরি নম্বর হলো ৬৪১৯৬/২০২৬। এই আইনি পদক্ষেপে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী দিল্লি সহ গোটা দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) শিবির। ঠিক এই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার সকালে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা সংসদ ভবন চত্বর থেকে একটি সুদীর্ঘ প্রতিবাদ মিছিল করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যান। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ভোটার তালিকার কারচুপি সংক্রান্ত একটি বিশদ স্মারকলিপি জমা দেওয়া। কিন্তু তার আগেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের যৌথ সাক্ষাতের সেই অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দেন। প্রধান বিচারপতির দফতর থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে, ফলে আলাদা করে প্রশাসনিক স্তরে কোনো বৈঠকের সুযোগ নেই। তবে আদালত এ কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে বিরোধীরা চাইলে যেকোনো সময় আইনি পথ অনুসরণ করে যথাযথ পিটিশনের মাধ্যমে আদালতের বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানাতে পারেন।

প্রধান বিচারপতির সেই আইনি বার্তার পরেই কালবিলম্ব না করে সুপ্রিম কোর্টের মূল বিচারবিভাগীয় দরজায় পিটিশন দাখিল করার সিদ্ধান্ত নেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আইনজীবীদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার যেভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় আইনি লড়াই। এর আগে গত রবিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বা প্রশাসনিক বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের রক্ষক হিসেবে প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ এবং সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্যই সর্বদা খোলা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সরকারের দৈনন্দিন কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও, বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক নিয়মের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সবসময় প্রস্তুত। আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৩ই অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত অন্যান্য সমজাতীয় মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রাহুল গান্ধীর এই নতুন পিটিশনটিও একসঙ্গে তালিকাভুক্ত করে বিচার করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের গণআন্দোলন এবং সংসদের লড়ায়ের পাশাপাশি এবার আইনি লড়াইকেও সমানভাবে হাতিয়ার করে শাসক শিবির এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে চাপে ফেলতে চাইছে বিরোধী শিবির। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী দিল্লিতে যে অনড় অবস্থানে দাঁড়িয়ে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইভিএম জালিয়াতি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই রিট পিটিশন দাখিলের ফলে সেই আন্দোলন এখন এক নতুন আইনি বৈধতা লাভ করল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগকে প্রথম থেকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে নিয়ম মেনেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীদের পক্ষে রাহুল গান্ধী যেভাবে খোদ সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, তাতে আগামী দিনে আইনি লড়াইয়ের ময়দার লড়াই আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করবে তা বলাই বাহুল্য। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলায় কী ধরনের নির্দেশ দেয় এবং নির্বাচন কমিশন তাদের লিখিত জবাবে কী জানায়, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
![]()
সব মিলিয়ে, দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে রাহুল গান্ধীর এই সুপ্রিম কোর্টমুখী হওয়া প্রমাণ করে যে বিরোধীরা আইনি বা রাজপথ—কোনো ময়দানই সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ। এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধীদের এই দীর্ঘমেউদি সংঘাত এখন দেশের বিচার ব্যবস্থার সর্বময় গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করেছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যদি বিন্দুমাত্র অস্বচ্ছতা থাকে, তবে তা সংবিধানের মূল কাঠামোর ওপর বড় আঘাত বলে মনে করছে বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট বেঞ্চে যখন এই সমস্ত মামলাগুলির যৌথ শুনানি শুরু হবে, তখন দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের নজর থাকবে আদালতের রায়ের দিকে। এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের ওপরই আগামী দিনের ভারতীয় রাজনীতির অভিমুখ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক সংস্কার অনেকাংশেই নির্ভর করবে, যা দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে।



