Sittong Homestay Fire: সিটংয়ে বারবিকিউয়ের আগুনে নববধূর ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় বিরাট অ্যাকশন! জমির মালিক-সহ গ্রেপ্তার ৪

Published:

Sittong Homestay Fire: সিটংয়ে বারবিকিউয়ের আগুনে নববধূর ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় বিরাট অ্যাকশন! জমির মালিক-সহ গ্রেপ্তার ৪

KOLKATA: Sittong Homestay Fire বা দার্জিলিং জেলার সিটংয়ে হোমস্টেতে বারবিকিউ করতে গিয়ে এক নববধূর মর্মান্তিক অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ প্রশাসন। হানিমুনে গিয়ে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার গৃহবধূ নিকিতা সাহা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্বামী সৌভিক দাসের সঙ্গে পাহাড়ের কোলে একটি রোমান্টিক ছুটি কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে সিটংয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাতের বেলায় বারবিকিউয়ের আগুনে তাঁদের সেই আনন্দঘন মুহূর্ত চিরতরে এক বিভীষিকায় পরিণত হয়। এই হাড়হিম করা ঘটনার তদন্তে নেমে কার্শিয়াং থানার পুলিশ হোমস্টের জমির মালিক, কেয়ারটেকার এবং কর্মী-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় চরম গাফিলতি এবং দুর্ঘটনার পর অসহযোগিতার অভিযোগে এই মেগা গ্রেপ্তারি পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। পুলিশের এই ত্বরিত অ্যাকশন প্রমাণ করে যে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন কতটা সংবেদনশীল এবং কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

আরও পড়ুন: Sittong Honeymoon Tragedy: হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি! সিটংয়ে বারবিকিউ করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেলেন চোপড়ার নববধূ নিকিতা 

কার্শিয়াং পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি অনিন্দ্য সুন্দর ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের সামনে এই চারজনের গ্রেপ্তারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন হোমস্টের জমির মূল মালিক নেহাল আজরান, কেয়ারটেকার পবন কুমার আগারওয়াল, কর্মী দিপেন লামা এবং এক শ্রমিক নাসির উদ্দিন। নেহাল, পবন এবং দিপেনের বাড়ি কার্শিয়াং এলাকায় হলেও, শ্রমিক নাসির উদ্দিনের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়। ইতিমধ্যেই এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বারবিকিউ বা ক্যাম্পফায়ার করার সময় যে ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি বা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা মজুত থাকা উচিত ছিল, হোমস্টে কর্তৃপক্ষের কাছে তা একেবারেই ছিল না। শুধু তাই নয়, আগুন জ্বালানোর সময় কেরোসিন বা থিনারের মতো কোনো অতি-দাহ্য পদার্থ অবৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহার করার ফলেই আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই তরুণীর শরীরে ধরে যায়। পুলিশ এখন ধৃতদের জেরা করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্যান্য গাফিলতির দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে।

Advertisement Andaman Vibes

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই হোমস্টে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লাগাতার গাফিলতি এবং চরম অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে আসছিলেন নিকিতা সাহার স্বামী সৌভিক দাস। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, বারবিকিউয়ের আগুন কমে আসায় তাপ বাড়ানোর জন্য কর্মীদের কাউকে বলা হয়েছিল, আর তখনই তেলের ড্রামটা বা থিনারের জার সরাসরি আগুনের ওপর উল্টে দেওয়া হয়, যার ফলেই বিস্ফোরণ ঘটে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। সৌভিকবাবুর আরও অভিযোগ, চোখের সামনে স্ত্রী যখন জীবন্ত জ্বলছিলেন, তখন হোমস্টের কর্মীরা পর্যাপ্ত সাহায্য করেননি। এরপর নিকিতাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার গাড়ির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হলেও হোমস্টে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চরম উদাসীনতা দেখানো হয়। প্রায় আধঘণ্টা পর একটি গাড়ির ব্যবস্থা হলেও, হোমস্টের কেউ তাঁদের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়ার সৌজন্যটুকুও দেখাননি। এই চরম গাফিলতির কারণেই নিকিতার চিকিৎসার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী।

আরও পড়ুন: American Airlines Flight: মাঝ আকাশে বিমানে আচমকাই নগ্ন হয়ে অশালীন আচরণ, মিয়ামিতে গ্রেফতার মহিলা যাত্রী 

বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন বছর চব্বিশের অগ্নিদগ্ধ নিকিতা সাহা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। স্বামী সৌভিক দাস জানিয়েছেন, নিকিতা যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর কথা বলার শক্তিও সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে সুস্থ করে তোলার সব রকম চেষ্টা চললেও, এখনই তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করার মতো শারীরিক পরিস্থিতি নেই। বিয়ের মাত্র দু’মাসের মাথায় হানিমুনে গিয়ে পরিবারের মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় নিকিতার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সৌভিকের কথায়, “ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া এখন আমাদের আর কিছুই করার নেই।” একটি সামান্য আনন্দ-উৎসবে হোমস্টে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি যে একটি গোটা পরিবারের জীবন কীভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে, নিকিতার এই অবস্থা তারই এক হৃদয়বিদারক উদাহরণ।

Advertisement

দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ের মতো পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হোমস্টেগুলির সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল। সিটংয়ের এই রোমহর্ষক বারবিকিউ দুর্ঘটনা সেই প্রশ্নকেই এবার আরও জোরালো করে তুলল। পাহাড়ের শুষ্ক আবহাওয়া এবং দমকা বাতাসের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে আগুন জ্বালানো এমনিতেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্যাম্পফায়ার বা বারবিকিউ আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা এবং হাতের কাছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) মজুত রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক হোমস্টে মালিকই শুধুমাত্র পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য এবং বেশি মুনাফার আশায় এই সুরক্ষাবিধিকে শিকেয় তুলে রাখেন। কার্শিয়াং পুলিশের এই মেগা গ্রেপ্তারির পর দার্জিলিং জেলা প্রশাসন পাহাড়ের সমস্ত হোমস্টের লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নতুন করে কড়াকড়িভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। পর্যটকদের জীবন নিয়ে যাতে আর কোনো হোমস্টে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, তার জন্য ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

Advertisement Burger4u

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img