Sourav Ganguly Delhi Capitals: সিএবি সভাপতি থাকার পাশাপাশি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচ হওয়া নিয়ে চরম বিতর্কে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক
Kolkata: ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন কিংবদন্তি অধিনায়ক তথা বঙ্গ ক্রিকেটের বর্তমান অন্যতম শীর্ষ প্রশাসক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের একবার ঘনীভূত হলো স্বার্থের সংঘাত বা ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’-এর চরম বিতর্ক। একদিকে তিনি যেমন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবি (CAB)-র বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, ঠিক তেমনি মঙ্গলবার তাঁকে আগামী বছরের আইপিএল টুর্নামেন্টের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালস বা (Delhi Capitals) দলের নতুন হেড কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই একই সঙ্গে ১টি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার সর্বোচ্চ পদে এবং ১টি কোটিপতি লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হেড কোচ পদে আসীন থাকার বিষয়টি নিয়েই এবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। সঞ্জীব গুপ্ত নামক জনৈক ১ ব্যক্তি এই গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি ই-মেইল পাঠিয়েছেন দেশের সুপ্রিম কোর্ট, বিচারপতি লোঢা কমিটি এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (BCCI) কাছে। এমনকি সেই অত্যন্ত গোপনীয় চিঠির ১টি প্রতিলিপি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি (ICC)-র চেয়ারম্যান জয় শাহের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী সঞ্জীব গুপ্ত তাঁর দীর্ঘ এবং বিস্তারিত চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অনুমোদিত ১টি প্রথম সারির রাজ্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি ১টি লাভজনক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হেড কোচ হয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নির্ধারিত বিচারপতি লোঢা কমিটির কড়া সুপারিশ এবং বোর্ডের নিজস্ব গঠনতন্ত্র এই জোড়া পদের কারণে সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তিনি তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, সিএবি-র সরকারি ওয়েবসাইটে সৌরভকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের ওয়েবসাইটে তাঁকে দলের কোচ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। সঞ্জীব তাঁর চিঠিতে সরাসরি সৌরভকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের ৩৮ (১) নম্বর নিয়ম তিনি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করছেন। এই জোড়া পদে থাকার ফলে প্রশাসনিক এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
![]()
বোর্ডের নিয়মে একেবারে পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বোর্ডের অনুমোদিত কোনো রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার প্রশাসক হলে তিনি নিজে বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য, পার্টনার এবং ঘনিষ্ঠ কেউ সরাসরি কোনো আর্থিক বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্ত হতে পারবেন না। বিশেষ করে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক আইপিএল দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সঞ্জীবের যুক্তি হলো, দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ বা দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ টিম অফিশিয়াল হওয়া এবং একই সঙ্গে রাজ্য ক্রিকেট প্রশাসনে শীর্ষ পদাধিকারী হিসেবে একসঙ্গে বহাল থাকাটা স্বার্থের সংঘাত নিয়মের ১টি চরম লঙ্ঘন। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তিনি কোনো ফোন ধরেননি বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের কোনো উত্তর দেননি বলে জানা গিয়েছে।

তবে সৌরভ নিজে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের তরফ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। সৌরভ অনুগামীদের যুক্তি হলো, এর আগেও সৌরভ যখন দক্ষিণ আফ্রিকার টি-২০ লিগের দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচের দায়িত্বে ছিলেন এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের অন্যতম অংশীদার জেএসডব্লিউ-এর ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’ পদে আসীন ছিলেন, তখনও এই একই ব্যক্তি অর্থাৎ সঞ্জীব গুপ্ত তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন এথিক্স অফিসার এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অরুণ মিশ্র সৌরভকে এই অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট বা ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, বিদেশের ১টি প্রাইভেট লিগে দায়িত্ব পালন করলে তা কোনোভাবেই ভারতীয় ক্রিকেটের প্রশাসনিক পদের দায়িত্বকে প্রভাবিত করে না বা ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হয়ঠি। তাই গত জানুয়ারি মাসেই সেই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ হয়ে গিয়েছিল।
India vs Brazil Match: গুরপ্রীতের ভুলে ব্রাজিলের কাছে ৪ গোল খেল ভারত! যুবভারতীতে মন জিতল রায়ানরা
যদিও সিএবি-তে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরের দাবি একেবারেই অন্যরকম। তাঁদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস হলো বিদেশের ১টি প্রাইভেট ক্রিকেট লিগ, যা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বা লোঢা কমিটির আইনের আওতায় পড়ে না। কিন্তু এবারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবারের অভিযোগ হলো ভারতীয় বোর্ডের নিজস্ব এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট আইপিএল-এর ১টি দলের কোচ হওয়া নিয়ে, যেখানে দেশের বর্তমান ক্রিকেটারেরা খেলেন। বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, ইডেন গার্ডেন্সে যখন দিল্লি ক্যাপিটালসের কোনো ম্যাচ থাকবে, তখন সৌরভ চাইলে সিএবি-র সর্বোচ্চ প্রশাসক হিসেবে সেই ম্যাচের পিচ তৈরি বা অন্যান্য লজিস্টিক বিষয় নিয়ে নিজের দলকে অযাচিত সুবিধা পাইয়ে দিতেই পারেন। তাই এখানে স্বার্থের সংঘাতের ১টি জ্বলন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এবং প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস নিয়ে বোর্ডের এথিক্স অফিসারের পুরনো পর্যবেক্ষণ এক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। এখন দেখার বিষয়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে এই চরম বিতর্ক নিয়ে কবে মুখ খোলেন এবং সুপ্রিম কোর্ট বা বোর্ড এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




