Special Summary Revision: SIR অতীত, এবার কি দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে Special Summary Revision? কী জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন?
রিপোর্ট: তানিয়া রায়
Kolkata: ভারতের নির্বাচনী পরিকাঠামোয় বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিয়ে দীর্ঘদিনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR পর্বের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটিয়ে এবার দেশজুড়ে স্পেশাল সামারি রিভিশন বা Special Summary Revision প্রক্রিয়া চালুর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের মোট ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আগামী ২০২৭ সালের ১লা জানুয়ারিকে যোগ্যতার তারিখ ধরে এই বার্ষিক ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হতে চলেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আইনি জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কমিশনের এই নতুন নীতি ঘোষণার ফলে সাধারণ ভোটারদের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেমে এসেছে, কারণ এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে খুব সহজেই ভোটার তালিকা আপডেট করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সুনির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ই নভেম্বর এই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, যার ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষ বা ভোটাররা আগামী ১১ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ পাবেন। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত আপত্তি নিষ্পত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আগামী ২০২৭ সালের ৪ঠা জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এই সংশোধনের পরিধির মধ্যে রাখা হয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, কেরল, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু সহ আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যকে। এমনকি অসমকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ পূর্বে অসমে SIR না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন।

সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘোরাফেরা করছে তা হলো, পূর্বে হওয়া SIR এবং বর্তমানের Special Summary Revision-এর মধ্যে মূল প্রযুক্তিগত ও কার্যগত পার্থক্য ঠিক কোথায়? নির্বাচন কমিশনের বিশদ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, SIR বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দেশের নাগরিক ও ভোটারকে নতুন করে নিজেদের সমস্ত নথিপত্র এবং যোগ্যতার প্রমাণপত্র জমা দিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে নতুনভাবে যাচাইকরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। পক্ষান্তরে, বর্তমানের Special Summary Revision হলো মূলত একটি বার্ষিক রুটিন আপডেট প্রক্রিয়া, যেখানে নতুন যোগ্য তরুণ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলা, বিদ্যমান তথ্যের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা এবং মৃত বা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মূল কাজটি করা হয়।
নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কোনো বৈধ বা জীবিত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, একই ব্যক্তির একাধিক নাম নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত হলে, স্থায়ীভাবে অন্য রাজ্যে বা এলাকায় স্থানান্তরিত ভোটার হলে কিংবা মৃত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে অপসারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দেওয়ার বিষয়টিকেও সম্পূর্ণ স্পষ্ট করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয়। তবে যে সমস্ত রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ইতিমধ্যেই SIR প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বা সম্প্রতি শেষ হয়েছে, সেখানে আপাতত এই Special Summary Revision-এর সূচি প্রযোজ্য হবে না এবং সেই বিষয়ে পরবর্তীতে পৃথকভাবে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নীতি ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিনের জল্পনা ও সংশয়ের অবসান ঘটে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এক স্বাভাবিক ও নিয়মিত ছন্দে ফিরে আসছে। অতীতে SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে বাড়তি আতঙ্ক, দৌড়ঝাঁপ ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, এই বার্ষিক Special Summary Revision তার অনেকটাই দূর করবে বলে আশাবাদী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। আগামী নভেম্বর মাসে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিও এই প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি ও নজরদারি শুরু করে দেবে। দেশের সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও বেশি মজবুত করতে এবং একটি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনের এই বার্ষিক সংশোধনের পদক্ষেপ কতখানি সফল হয়, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।




