Suvendu Adhikari: চলতি অর্থবর্ষেই ১ লক্ষ সরকারি চাকরি! ৫৪টি দফতরে কর্মী নিয়োগের মেগা সিদ্ধান্ত নবান্নে
KOLKATA: Suvendu Adhikari বা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার এবার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক আক্ষরিক অর্থেই মেগা সুখবর নিয়ে এল। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবং বেকারত্বের অন্ধকার দূর করতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে এক ধাক্কায় বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল নবান্ন। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই রাজ্য সরকারের অধীনে মোট এক লক্ষ শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে। আসন্ন দুর্গাপুজো এবং উৎসবের মরশুমের ঠিক প্রাক্কালে সরকারের এই যুগান্তকারী ঘোষণায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর মনে এক বিপুল আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির আশায় বসে থাকা শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের কাছে এই মেগা ঘোষণা আক্ষরিক অর্থেই এক বিরাট বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নবান্ন সূত্রে এক্সক্লুসিভভাবে জানা গিয়েছে যে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং রাজ্য সরকারের প্রায় ৫৪টি আলাদা আলাদা দফতর বা বিভাগে এই এক লক্ষ কর্মীকে নিয়োগ করা হবে। সরকারের প্রাথমিক ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করে ঠিক হয়েছে যে, প্রতিটি দফতরভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা শূন্যপদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সাত হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি রয়েছে, তাই এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের গতি বহুগুণে বৃদ্ধি করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির শূন্যপদের তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।
এই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং পুলিশ কর্মীদের ওপর থেকে কাজের অতিরিক্ত চাপ কমানো নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই পুলিশ বাহিনীতে বড়সড় নিয়োগের ঘোষণা করেছে সরকার। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কলকাতা পুলিশেই (Kolkata Police) নতুন করে চার হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে। এর পাশাপাশি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বা রাজ্য পুলিশ বাহিনীতে (West Bengal Police) এক ধাক্কায় আরও ১২ হাজার কর্মী ও আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে রাজ্যের পুলিশ পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে ১৬ হাজার নতুন মুখ আসতে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে, তেমনই প্রশাসনিক পরিকাঠামো এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও এক অভূতপূর্ব এবং মেগা নিয়োগের রূপরেখা তৈরি করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলি পূরণ করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন যে, স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে মোট ৩৪ হাজার পদে নিয়োগ করা হবে। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে পঠনপাঠনের মান উন্নয়ন করতে এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বজায় রাখতে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি ছিল। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিরাট বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের হতাশার অবসান ঘটাবে বলে প্রবল আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান সরকার যে কর্মসংস্থানকে তাদের পাখির চোখ করেছে, এই এক লক্ষ নিয়োগের ঘোষণাই তার সবচেয়ে বড় মেগা প্রমাণ। গত কয়েক বছরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত সেই সমস্ত নেতিবাচক ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত এবং মসৃণভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিটি দফতরে পর্যাপ্ত লোকবল থাকা একান্ত আবশ্যক। তবে এখন রাজ্য সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় মেগা চ্যালেঞ্জ হলো, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এবং ১০০ শতাংশ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করা। প্রশাসন যদি তাদের এই মেগা টার্গেট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করতে সক্ষম হয়, তবে তা বাংলার কর্মসংস্থানের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।




