West Bengal Weather: দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হলুদ ও কমলা সতর্কতা! আগামী ৩ দিন মেগা বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তরের

Published:

West Bengal Weather: দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হলুদ ও কমলা সতর্কতা! আগামী ৩ দিন মেগা বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তরের

KOLKATA: West Bengal Weather বা রাজ্য জুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে ফের একবার দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে। উৎসবের মরশুম শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, ঠিক তার আগেই এই নাছোড়বান্দা বৃষ্টির ভ্রুকুটি সাধারণ মানুষের মনে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিসের তরফ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে একটি মেগা হলুদ সতর্কতা বা ইয়োলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, আজ সারাদিনে এই জেলাগুলিতে গড়ে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার বড়সড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Ad

আজকের পর আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দুর্যোগের মাত্রা আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। এদিন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম—মূলত এই তিন জেলার দু-এক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের মেগা সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে এই তিনটি জেলার জন্য হাওয়া অফিস সরাসরি কমলা সতর্কতা বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার সারাদিনে এই অঞ্চলগুলিতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে। একটানা এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির ফলে স্থানীয় নদীগুলির জলস্তর আচমকা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জনজীবন আক্ষরিক অর্থেই বিপর্যস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: Akbar Ram Siya Coin: মুঘল মুদ্রায় রাম-সীতার মূর্তি! সম্রাট আকবরের তৈরি দুষ্প্রাপ্য মুদ্রার অজানা ঐতিহাসিক গল্প 

শুক্রবারের এই মেগা দুর্যোগ কাটিয়ে শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির অভিমুখ ক্রমশ দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির দিকে অগ্রসর হবে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে। এর ফলে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও পশ্চিমের জেলাগুলিতে দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়ে আসবে। আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম—এই চারটি জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের এই রুক্ষ জেলাগুলিতেও ওই দিন গড়ে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে শনিবারের জন্য পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলাগুলিতে ফের হলুদ সতর্কতা জারি করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে যাতে একটানা বৃষ্টির ফলে মাটির বাড়ি বা কাঁচা রাস্তার কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত উদ্ধারকাজ বা মেরামতির ব্যবস্থা করা যায়।

Advertisement Andaman Vibes

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে পর পর এই তিন দিনের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রাজ্যের আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির ওপর এক বিরাট বড় আঘাত হানতে চলেছে। পুজো আসতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, এই সময়ে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে প্যান্ডেল তৈরির কাজ একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। কিন্তু এই মেগা বৃষ্টি এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বাঁশ ও কাপড়ের নির্মীয়মাণ প্যান্ডেলগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, বৃষ্টির কারণে মৃৎশিল্পীরাও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, কারণ রোদ না উঠলে প্রতিমা শুকানোর কাজ সম্পূর্ণ থমকে যায়। এর পাশাপাশি, পুজোর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বেরোনো সাধারণ মানুষকেও ছাতা বা রেইনকোট হাতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে। গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের মধ্যেও এক প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, কারণ খেতের ফসলের ওপর এই ভারী বৃষ্টি চরম মেগা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন: Bigg Boss Bangla: সৃজলার চোটের পর মেগা বিতর্ক! মেয়ের ‘অমানবিক’ কাজ সত্ত্বেও ‘আমি গর্বিত’ বলে রোষের মুখে নন্দিনীর বাবা 

হাওয়া অফিসের এই কড়া সতর্কবার্তার পর রাজ্য প্রশাসন এবং নবান্নের তরফ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেগা প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নিচু এলাকাগুলি থেকে জল বের করার জন্য পর্যাপ্ত পাম্পের ব্যবস্থা মজুত রাখতে বলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর প্রশাসন আগে থেকেই কড়া নজর রাখছে। সাধারণ মানুষকেও অতি প্রয়োজন ছাড়া বৃষ্টির মধ্যে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা এড়াতে রাস্তায় জমা জল এবং বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন দিনের এই প্রাকৃতিক তাণ্ডব সামলে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ কীভাবে আবার আসন্ন উৎসবের মেজাজে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হন।

Advertisement

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img