Virat Kohli Premanand Ashram: বৃন্দাবনের আশ্রমে যাওয়া নিয়ে রটনা ভিত্তিহীন, ব্যক্তিগত ভক্তি নিয়েই বার্তা টিম কোহলির
New Delhi: বৃন্দাবনের সুপরিচিত আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি নগদ ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন—সম্প্রতি ওঠা এই বিতর্কিত এবং চাঞ্চল্যকর দাবিকে এবার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সর্বৈব মিথ্যা বলে খারিজ করল ‘টিম কোহলি’। বুধবার এই চরম স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে অবশেষে সরাসরি মুখ খুললেন খোদ বিরাট কোহলির মুখপাত্র। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই রটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং একশো শতাংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে বিরাট কোহলি এবং তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মার যে আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে, তা একেবারেই তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং পরম শ্রদ্ধার জায়গা থেকে তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো প্রকারের আর্থিক লেনদেন বা প্রচারের কোনো সম্পর্ক নেই। কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী এবং ভক্তদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই ধরণের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিরাট কোহলির মুখপাত্রের তরফ থেকে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ১টি বিশেষ বার্তা দিয়ে আবেদন জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সমাজমাধ্যমে কোনো রকম অমূলক চর্চা বা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত। আসলে, গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং বিনোদন জগতের এই মহাতারকা দম্পতি অর্থাৎ বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা একাধিকবার বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে সশরীরে গিয়েছেন। ২০২৩ সাল থেকেই নিয়মিত বিরতিতে আশ্রমে তাঁদের যাতায়াত এবং মহারাজের সঙ্গে একান্ত আধ্যাত্মিক বার্তালাপের একাধিক ভিডিও নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কোহলি দম্পতির এই ভক্তিভাব দেখে তাঁদের অগণিত ভক্তরা যখন মুগ্ধ হয়েছেন, ঠিক তখনই একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে তাঁদের এই ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং যাতায়াতকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এমন নোংরা এবং কুৎসিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে কোহলি শিবির দাবি করেছে।

এই চরম বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মার ১টি মারাত্মক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তিনি প্রকাশ্যে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেছিলেন যে, প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নাকি রাজস্থানের এক সংস্থা ও প্রোমোটারের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই গোটা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক ও কাদা ছোড়াছুড়ি। তবে এই অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগের পক্ষে দীনেশ শর্মা কোনো প্রকারের অকাট্য প্রমাণ, নথি, বা আর্থিক লেনদেনের চুক্তি প্রকাশ্যে আনতে পারেননি। নিছক মৌখিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এই দাবি করেছিলেন, যা কোনোভাবেই আইনি বা নৈতিকভাবে প্রমাণিত নয়। ফলে এই দাবি নিছকই সস্তা প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল বলে সাধারণ মানুষের বড় ১টি অংশ মনে করছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ৫ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের বিতর্কটি ঠিক এমন ১টি সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম ১টি চরম মর্মান্তিক এবং রহস্যজনক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বৃন্দাবনের ওই আশ্রমের ১ জন তরুণ আবাসিক দীপক লোধী আশ্রমেরই একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে এই মৃত্যুর ঘটনায় অত্যন্ত শিউরে ওঠার মতো তথ্য উঠে আসে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, মৃত্যুর ঠিক আগেই ওই যুবকের শরীরের গোপনাঙ্গ নির্মমভাবে কেটে নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর ঘর থেকে একটি রক্তমাখা গ্রাইন্ডার মেশিন উদ্ধার করা হয়। এই ভয়াবহ ও নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশ্রমের ভেতরের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক কার্যকলাপ নিয়ে নানা মহলে বিরাট বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়।

আশ্রমে তরুণ শিষ্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সেই তপ্ত আবহের মধ্যেই কোহলি দম্পতিকে নিয়ে এই বিতর্কিত দাবিটি সামনে এনে বিষয়টিকে আরও বেশি জটিল এবং চাঞ্চল্যকর করে তোলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে কোহলির মুখপাত্রের স্পষ্ট এবং জোরালো বক্তব্যের পর এই অর্থ লেনদেনের মিথ্যে রটনায় আপাতত পূর্ণচ্ছেদ পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন মূল নজর গিয়ে পড়েছে আশ্রমের সেই শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক পুলিশি তদন্তের দিকে। প্রশাসন এবং উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল কীভাবে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের শিকড়ে পৌঁছায় এবং প্রকৃত সত্য সামনে আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অন্যদিকে, কোটি কোটি ভক্তের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়ে কোহলির প্রতিনিধি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশ্বাস ও ভক্তি কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এবং বিরাট কোহলির মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সুনাম নষ্ট করার এই নোংরা চক্রান্ত কোনোভাবেই সফল হবে না।
![]()



