West Bengal Bypoll Update: শাসক দলের দাবি ভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, অন্যদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে একতরফা আচরণের অভিযোগ বিরোধীদের
Kolkata: রাজ্যের ২ হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রিজিনগরের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল গোটা বাংলায়। শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ২ কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ অত্যন্ত অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু ঠিক এর উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাদের জোরালো অভিযোগ, পুলিশ এবং প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে শাসক দল একতরফাভাবে ভোট লুঠ করছে এবং বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে উঠেছে যে, বিরোধী দল কংগ্রেসের পাশাপাশি মমতা পন্থী এবং ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলের নেতারাও একযোগে নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলেছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি এবং উত্তেজনার খবর সামনে আসতে শুরু করে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে আজ গোটা দেশের নজর ছিল। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি বিপুল ভোট পড়েছে, যা উপনির্বাচনের নিরিখে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, এ বার নন্দীগ্রামে ১টি নতুন ‘রেকর্ড’ তৈরি হতে পারে। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর প্রায় ৮২ হাজার ভোটে জেতার যে বিরাট ব্যবধান ছিল, এবারের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ সেই মার্জিনকেও অনায়াসে ছাপিয়ে যাবেন। কিন্তু বেলা গড়াতেই বিরোধী কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অত্যন্ত মারাত্মক অভিযোগ করে বসেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের কোনো বুথেই তাঁদের পোলিং এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি, সকলকেই জোর করে তাড়িয়ে দিয়ে অবাধে ছাপ্পা ভোট চলছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, পুরো বিধানসভা জুড়েই ব্যাপক রিগিং করে ভোট করা হচ্ছে।
![]()
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার রিজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ৫৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কিন্তু এই কেন্দ্রেও ভোট লুঠের অভিযোগে সরব হয়েছে সমস্ত বিরোধী দলগুলি। সকালে পুলিশ প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর ছেড়ে দেওয়া রিজিনগর বিধানসভা আসনটি শাসক দল গায়ের জোরে দখল করার চেষ্টা করছে। তিনি পরিস্থিতিকে ‘এমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। বেলা গড়াতে সেই একই অভিযোগে একযোগে সুর চড়ায় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সিপিএম। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম এবং ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ পৃথকভাবে অভিযোগ করেন যে, বেশিরভাগ বুথ থেকেই তাঁদের এজেন্টদের জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

এই ভোট লুঠের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রিজিনগরে প্রবল বিক্ষোভ এবং অবস্থান শুরু হয়। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম রিজিনগরে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট কোনোভাবেই অবাধ হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং। একই অভিযোগ তুলে এবং নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আজ দুপুরে খোদ রিজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসে পড়েন কংগ্রেস প্রার্থী। পাশাপাশি, এই ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে ১টি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শফিউজ্জামান শেখ আবার অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া হুমায়ুন কবীরকে দুষে মন্তব্য করেছেন যে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে হারাতে যিনি বিজেপি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন, আজ সেই বিজেপির বিরুদ্ধেই লড়াই করতে গিয়ে তাঁর এই পরিণতি হয়েছে। বিরোধীদের একজোট হয়ে করা এই পুনর্নির্বাচনের দাবি নির্বাচন কমিশন কীভাবে বিবেচনা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিরোধীদের তোলা এই সমস্ত রিগিং এবং ভোট লুঠের অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। আজ সকালে জলপাইগুড়ি সফরে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের এই ২ উপনির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেন। তিনি অত্যন্ত জোর গলায় বলেন যে, রিজিনগরে বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে, যা এই মুহূর্তে অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাঁর দাবি, সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরাও এবার আর কোনো বিভাজনের রাজনীতি চান না, তাঁরা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আর কারখানা চান। অন্যদিকে নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, গতবারের চেয়ে এ বার সেখানে জয়ের মার্জিন অন্তত ৫ গুণ বেশি হবে। সব মিলিয়ে, শাসক দলের জয়ের আত্মবিশ্বাস এবং বিরোধী দলগুলির ভোট লুঠের অভিযোগের মধ্যে পড়ে এই ২ উপনির্বাচনের আসল জনাদেশ ব্যালট বক্সে ঠিক কীভাবে বন্দি হলো, তা আগামী গণনা পর্বেই সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাবে।




