Sharadwat vs Piyush: দমদম পার্কে দুই বিজেপি বিধায়কের প্রকাশ্য বচসা! সিন্ডিকেট নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী শারদ্বত ও পীযূষ

Published:

Sharadwat vs Piyush: দমদম পার্কে দুই বিজেপি বিধায়কের প্রকাশ্য বচসা! সিন্ডিকেট নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী শারদ্বত ও পীযূষ

KOLKATA: Sharadwat vs Piyush বা রাজ্যের দুই হেভিওয়েট বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পীযূষ কানোরিয়ার মধ্যকার প্রকাশ্য সংঘাত এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মেগা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই শাসকদলের অন্দরে এমন প্রকাশ্য অন্তর্দ্বন্দ্ব স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দমদম পার্কে আয়োজিত একটি দলীয় বৈঠকে। একদিকে ছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হন রাজারহাট-নিউটাউনের দাপুটে বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। দুই নেতার মুখোমুখি সাক্ষাতে রীতিমতো ছন্দপতন ঘটে গোটা সভার এবং সাধারণ মানুষের সামনেই তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতি নিয়ে তাঁরা তীব্র বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। শাসকদলের এমন দুই শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ দেখে সভাস্থলে উপস্থিত সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাও রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।

Advertisement Andaman Vibes

দমদম পার্কে আয়োজিত এই মেগা বৈঠকটি শুরু হয়েছিল সাধারণ একটি জনসংযোগ কর্মসূচির মতোই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সেখানে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছিলেন। ঠিক সেই সময়েই সেখানে দলবল নিয়ে উপস্থিত হন পীযূষ কানোরিয়া। তাঁকে দেখামাত্রই মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বারবার তাঁকে মঞ্চে ওঠার জন্য আহ্বান জানাতে থাকেন। কিন্তু প্রথমদিকে পীযূষ কানোরিয়া মঞ্চে উঠতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন, যা নিয়ে সভাস্থলে এক চরম শোরগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পীযূষের সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন অনুগামী মঞ্চের দিকে আঙুল তুলে উপস্থিত কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিজে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন এবং কার্যত হাত ধরে পীযূষকে মঞ্চে নিয়ে যান। কিন্তু এই আপাত সৌজন্যের আবরণের নিচেই যে এক চরম রাজনৈতিক ক্ষোভ লুকিয়ে ছিল, তা বোঝা যায় পীযূষ কানোরিয়া মাইক হাতে নেওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: চলতি অর্থবর্ষেই ১ লক্ষ সরকারি চাকরি! ৫৪টি দফতরে কর্মী নিয়োগের মেগা সিদ্ধান্ত নবান্নে 

মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই মাইক হাতে নিয়ে কার্যত গর্জে ওঠেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পীযূষ প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেন যে, দমদম পার্কে এত বছর ধরে যে সমস্ত অসামাজিক লোকেদের তাঁরা ঢুকতে দেননি, এখন রাজনৈতিক মদতে তাদের আবার কেন ঢোকানো হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, দমদম পার্কের প্রতিটা প্রোমোটার জানে যে তিনি জীবনে কাউকে সিন্ডিকেট চালাতে দেননি। কিন্তু বর্তমানে রাত সাড়ে দশটা-এগারোটার সময় বহিরাগতরা পাড়ায় ঢুকে মহিলাদের ওপর অত্যাচার করছে এবং প্রোমোটারদের ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এখানেই না থেমে দক্ষিণ দমদম পুরসভার টেন্ডার দুর্নীতি নিয়েও সরব হন তিনি। পীযূষ সরাসরি প্রশ্ন ছোঁড়েন, “দক্ষিণ দমদম পুরসভার আলোর কন্ট্র্যাক্ট, ১৮টি জায়গার কন্ট্র্যাক্ট একটা লোক পেয়েছে। কেন পেয়েছে? কার মদতে পেয়েছে? আপনি আমাকে উত্তর দিন।”

Ad

সতীর্থ বিধায়কের এই প্রকাশ্য মেগা আক্রমণের মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইক হাতে নেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। অবাক করা বিষয় হলো, তিনি পীযূষের অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার বদলে কার্যত দলের একাংশের গাফিলতির কথাই স্বীকার করে নেন। শারদ্বত প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন যে তাঁর কাছে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং প্রোমোটারদের কাছ থেকে পয়সা নেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে, এবং তিনি এই অভিযোগগুলিকে মিথ্যে বলবেন না। তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁর কাছে আসা ৯০ শতাংশ চিঠিই ‘নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক’ শর্তে লেখা। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে শাসকদল হিসেবে তাঁরা সাধারণ মানুষের মন থেকে ভয় দূর করতে পারেননি। শারদ্বতের কথায়, “তার মানে আমরা কিন্তু ভয় আউট, ভরসা ইন করতে পারিনি। আমাদের কাজ বাকি। বিধায়কের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি প্রকাশ্যে বলছি, খাচ্ছি না, খাব না, খেতে দেবও না।”

আরও পড়ুন: Durga Puja 2026: অনুদান নিলে মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকা বাধ্যতামূলক! পুজো কমিটিগুলোকে কড়া অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি বীরভূমের বিজেপি নেতার

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে দুই হেভিওয়েট বিধায়কের এই বাক-বিতণ্ডা রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এক নতুন মেগা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগকে মান্যতা দিতে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পীযূষ কানোরিয়া পরে জানান যে, দমদম পার্ক তাঁর আদি বাসস্থান এবং তিনি কোনোদিনই কাউকে সেখানে সন্ত্রাস চালাতে দেননি, আগামী দিনেও ছেড়ে কথা বলবেন না। অন্যদিকে, মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় তাঁর কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন যে তাঁর লক্ষ্য হলো নামহীন চিঠির সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের আমলে দলের দুই জনপ্রতিনিধির এমন প্রকাশ্য কাদা ছোঁড়াছুড়ি প্রশাসনের ভাবমূর্তির ওপর এক বিরাট বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সামাল দিতে এবার রাজ্য নেতৃত্বকে কড়া হাতে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

Advertisement

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img