Dipendu: সোনামণিকে ব্যাড টাচ রাজবীরের! টাস্কের মাঝে উগ্র রূপ দেখালেন দীপেন্দু
KOLKATA: Dipendu সাধারণত বিগ বসের ঘরে অত্যন্ত শান্ত এবং ধীরস্থির স্বভাবের প্রতিযোগী হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এবার তাঁর এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উগ্র মেজাজ দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন ঘরের অন্যান্য সদস্যরা থেকে শুরু করে দর্শকরাও। বিগ বসের ঘরে একটি বিশেষ টাস্ক বা খেলাকে কেন্দ্র করে সোনামণি এবং রাজবীরের মধ্যে চরম বচসা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাজবীরের বিরুদ্ধে সোনামণিকে অনৈতিকভাবে স্পর্শ করা বা ‘ব্যাড টাচ’-এর মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। আর ঠিক সেই চরম উত্তেজনার মুহূর্তেই আচমকা মেজাজ হারিয়ে বসেন দীপেন্দু। তাঁর এই আগ্রাসী রূপ দেখে ঘরের বাকি সদস্যরা কার্যত হতবাক হয়ে যান, কারণ এর আগে তাঁকে কখনোই এতটা রাগী মেজাজে দেখা যায়নি।

বিগ বসের নির্দেশ অনুযায়ী সম্প্রতি ঘরের সমস্ত সদস্যদের মোট তিনটি আলাদা দলে ভাগ করা হয়েছিল। এই দলগুলি হলো—বেডরুম, কিচেন এবং গার্ডেন। বর্তমান ক্যাপ্টেন তনুশ্রী কোনও দলেরই সদস্য ছিলেন না এবং তিনি পুরো খেলাটির পরিচালনা করছিলেন। বেডরুম দলের হয়ে খেলছিলেন নন্দিনী, রাজবীর, জীতু এবং মনামী। অন্যদিকে কিচেন দলের সদস্য ছিলেন সোহিনী, দুর্নিবার, দীপেন্দু, ঝিলম, নীরঞ্জন এবং সোনামণি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, গার্ডেন দলে একাই লড়ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত কল। বিগ বসের দেওয়া এই নতুন টাস্কের মূল লক্ষ্য ছিল সোনার বিস্কুট সংগ্রহ করা। নিয়মানুযায়ী খেলা শেষে যে দলের কাছে সবচেয়ে বেশি সোনার বিস্কুট জমা থাকবে, তারাই এই টাস্কে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হবে।
এই খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চরম বিতর্ক এবং ঝামেলার সূত্রপাত হয়। সাইরেন বাজার আগেই রাজবীর নিয়ম ভেঙে একসঙ্গে একাধিক সোনার বিস্কুট তুলে নেন। বিগ বস তাঁকে তৎক্ষণাৎ বাধা দেন এবং সেই বিস্কুটগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় ফেরত রেখে আসতে নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই আসল উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। সোনামণি বেশ কয়েকটি সোনার বিস্কুট নিজের জামার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন যাতে বিপক্ষ দল সেগুলি নিতে না পারে। কিন্তু রাজবীর সেই বিস্কুটগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য জোরপূর্বক তাঁর দিকে এগিয়ে যান। তখন সোনামণি অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁকে সতর্ক করে বলেন যে তিনি যেন তাঁকে কোনোভাবেই স্পর্শ না করেন, নাহলে তিনি নিজেকে বাঁচাতে সেলফ ডিফেন্স বা আত্মরক্ষার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।

সোনামণির এই কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজবীর কোনো কথা না শুনে তাঁকে স্পর্শ করে ফেলেন, যা নিয়ে চরম বিরক্ত হন সোনামণি। এই পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন তনুশ্রীও সোনামণির পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিন্তু বিপক্ষ দলের নন্দিনী রাজবীরের পক্ষ নিয়ে সাফাই দেন যে খেলার খাতিরেই রাজবীর এমনটা করেছেন। তখন তনুশ্রী পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন যে একজন মহিলা হয়ে নন্দিনী কীভাবে অপর এক মহিলার অসম্মানের বিষয়টিকে সমর্থন করতে পারেন। রাজবীর নিজেও তাঁর আচরণের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন যে বিস্কুট শরীরে লুকিয়ে রাখলে তিনি স্পর্শ না করে কীভাবে সেগুলো বের করবেন। ঠিক এই চরম তর্কাতর্কি এবং উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই আচমকা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন শান্ত স্বভাবের দীপেন্দু। রাগের বশে তিনি সরাসরি একটি বড় সোফা ধরে সরিয়ে দেন, যার ফলে মনামী ও নন্দিনী যে বিস্কুটগুলো আগলে রেখেছিলেন তা পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর উপস্থিতিতে দুর্গাপুজোর মেগা উদ্বোধন! থাকছে ড্রোন ও লেজার শো
দীপেন্দুর এই অভাবনীয় এবং আগ্রাসী মেজাজ দেখে ঝিলম সহ ঘরের প্রত্যেকেই রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যান। ঝিলম প্রকাশ্যেই বলেন যে দীপেন্দুর প্লেয়ার এনার্জি বা খেলার জেদ একেবারে আলাদা পর্যায়ের। অন্যদিকে এই খেলার আবহে নন্দিনী এবং সোহিনীর মধ্যেও তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। নন্দিনী সোহিনীকে কটাক্ষ করেন এবং দুর্নিবারকে লিডার বলে বাকিদের ‘মাটির ড্যালা’ আখ্যা দেন। এর পাল্টা জবাবে সোহিনীও তীব্র ব্যঙ্গ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই হাড্ডাহাড্ডি টাস্কে জয়লাভ করে মনামী, নন্দিনী, রাজবীর ও জীতুর বেডরুম দল। ফলস্বরূপ পরবর্তী ক্যাপ্টেন্সি দৌড় থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় দীপেন্দু, সোহিনী, সোনামণি ও ঝিলমদের কিচেন দল। টাস্কের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিগ বসের এই পর্বে রাজবীরের আচরণ এবং দীপেন্দুর আচমকা উগ্র রূপই দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




