Abhijeet Dipke Tiranga March Delhi: দিল্লিতে ৩২ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে গ্রেফতারির আশঙ্কায় সিজেপি প্রধান অভিজীৎ দিপকে
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানীতে চরম উত্তেজনা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রধান অভিজীৎ দিপকে দাবি করেছেন যে নম্বর প্লেটহীন গাড়ি তাঁকে লাগাতার অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি (IB)-র আধিকারিকেরা তাঁর বাড়ির ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার বিকেলে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার অনেক আগেই ‘নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল’ (NDMC) ঘোষণা করেছে যে ১৬ এবং ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সিজেপির এই আন্দোলন কঠোরহস্তে দমন ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার রাজধানী জুড়ে প্রায় ৩২ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই সিজেপি প্রধান অভিজীৎ দিপকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের জাতীয় পতাকা বা তেরঙা ওড়ানোর অপরাধে যদি ফের তাঁদের জেলের ভাত খেতে হয়, তবে তাঁরা তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই হুঙ্কার দিয়ে সমস্ত দেশপ্রেমিক নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে সামিল হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। দিল্লি পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টায় নির্ধারিত এই কর্মসূচির শুধুমাত্র কনট প্লেস চত্বরেই ৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে, যাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা সিএপিএফ (CAPF)। এর আগে গত ১০ অক্টোবর সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেবল নয়াদিল্লি জেলাতেই ৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে প্রশাসনের তরফে এবার সুরক্ষার কড়াকড়ি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে এই ‘ককরোচ-কর্মসূচি’-র জন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দিল্লির বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যার ফলে চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও পুলিশ নামমাত্র ছাড় দিয়ে জানিয়েছে যে অল্প কিছু মানুষ নির্দিষ্ট উপযুক্ত স্থানে মিছিল করতে পারবেন, কিন্তু সেই ‘যথাযথ স্থান’ বা নির্দিষ্ট জনবলের পরিধি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দায়ে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে তিহাড় জেলে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে দিন কাটাচ্ছেন।
Supreme Court EC notice: নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে এবার নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট
গত মঙ্গলবার সিজেপি নেতাদের এই গ্রেপ্তারের ঘটনার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধৃতদের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছেন। এমনকি রাহুল গান্ধী গত বুধবার নিজ বাসভবনে চা চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ককরোচ নেতৃত্বকে, যা বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) অনিয়ম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এতদিন সমান্তরালভাবে চলা আন্দোলন ও প্রতিবাদ এখন আরও বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। প্রশাসনের সমস্ত বাধা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ৩২ হাজার পুলিশের কড়া পাহারাকে উপেক্ষা করে শুক্রবারের এই ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযান জাতীয় রাজধানীর রাজপথে এক বড়সড় রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলেই ওয়াকিবহাল মহল আশঙ্কা করছে।




