Ambuja Neotia Investment: বাংলায় পনেরো হাজার কোটির বিনিয়োগ! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হর্ষবর্ধন নেওটিয়ার
Ambuja Neotia Investment: দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে অবশেষে বাংলায় শিল্পের এক সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে একের পর এক বড়সড় ইতিবাচক খবর সামনে আসছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। আদানি, আম্বানি থেকে শুরু করে আমূল, অমিত মেটালিক্স বা ইন্ডিয়ান অয়েলের মতো দেশের প্রথম সারির কর্পোরেট সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। আর এই প্রবল শিল্পবান্ধব আবহাওয়ার মাঝেই এবার রাজ্যের উন্নয়নের অংশীদার হতে প্রবল উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে এলেন বাংলারই অন্যতম ভূমিপুত্র এবং স্বনামধন্য শিল্পপতি হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। আগামী দিনের বাংলার শিল্প মানচিত্র ঠিক কেমন হতে চলেছে, তারই এক বিশাল মেগা ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন নবান্নে, যা রাজ্যের কর্মপ্রত্যাশী তরুণ প্রজন্মের চোখে এক বিরাট স্বপ্নের বীজ বপন করেছে।
![]()
বুধবার রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তরp নবান্নে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর অম্বুজা গ্রুপের তরফ থেকে তাদের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত পোস্ট করে এই সুখবরটি রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। ওই আনুষ্ঠানিক পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, আগামী পাঁচ থেকে আট বছরের মধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় পনেরো হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার এক বিরাট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এই কর্পোরেট গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই একান্ত বৈঠকে শিল্পপতি হর্ষবর্ধন নেওটিয়া তাঁর সংস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং কর্মপরিকল্পনার কথা অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরেছেন। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের সঙ্গে কর্পোরেট জগতের এই সরাসরি ইতিবাচক যোগাযোগ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এক অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুনঃ INDIA Alliance Meeting: ইভিএম নয় ব্যালট চাই! দিল্লিতে বড় আন্দোলনের ডাক ‘ইন্ডিয়া’ জোটের।
অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর এই পনেরো হাজার কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য। সংস্থার পেশ করা প্রস্তাব অনুযায়ী, গোটা রাজ্য জুড়ে মোট পাঁচটি অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই পাঁচটি হাসপাতালে মোট এক হাজার দুশো ষাটটি শয্যার ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে বিশ্বের সমস্ত আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ সুবিধা উপলব্ধ করানো হবে। রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের এই বিশাল জোয়ার আগামী দিনে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাজনিত দুর্ভোগ অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এই হাসপাতালগুলিকে কেন্দ্র করে ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে হাজার হাজার সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীর বিপুল কর্মসংস্থানের এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি হবে।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন এবং আবাসন শিল্পেও এক যুগান্তকারী বিপ্লব আনতে চলেছে অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠী। সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যে মোট চোদ্দোটি নতুন হসপিটালিটি প্রকল্প বা বিলাসবহুল পর্যটন আবাস গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পগুলির অধীনে সর্বমোট এক হাজার সাতাশিটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল কক্ষ বা রুম তৈরি করা হবে। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে বিশ্বের দরবারে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই বিরাট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, শহর এবং শহরতলির আবাসন সমস্যা মেটাতে এবং আধুনিক নগরোন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্যের তিনটি আলাদা জায়গায় তিনটি বিরাট এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ টাউনশিপ প্রকল্প গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই মেগা টাউনশিপগুলোতে সাধারণ মানুষের বাসস্থানের পাশাপাশি স্কুল, বাজার এবং বিনোদনের সমস্ত রকম আধুনিক ব্যবস্থা মজুত থাকবে।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাবকে দু’হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় প্রবল উৎসাহ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরের আধিকারিকদের দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পথে যাবতীয় বাধা দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ছাড়পত্র—সবকিছুই যাতে এক ছাতার তলায় দ্রুত পাওয়া যায়, সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। তবে এই পাঁচটি হাসপাতাল, চোদ্দোটি হোটেল এবং তিনটি টাউনশিপ রাজ্যের ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গড়ে উঠবে এবং কবে থেকে এর নির্মাণ কাজ পাকাপাকিভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত বা বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই এই মেগা প্রজেক্টগুলির স্থান নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা আগামী দিনের বাংলার শিল্পাকাশে এক নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




