Cooch Behar: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোচবিহার সফরে শুভেন্দু অধিকারী! মদনমোহন মন্দিরে পুজো ও মেগা প্রশাসনিক বৈঠক
KOLKATA: Cooch Behar বা কোচবিহার জেলায় আজ এক ঐতিহাসিক দিন, কারণ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথমবার জেলা সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় এর আগে প্রশাসনিক বৈঠক করলেও কোচবিহারে এটিই তাঁর প্রথম মেগা সফর। এই সফর ঘিরে সকাল থেকেই কোচবিহার জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ মহলে প্রবল তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়া এবং অন্যদিকে রবীন্দ্র ভবনে জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক—সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মঙ্গলবারের এই সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহর। বিগত কয়েক মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু উত্তরবঙ্গের এই সীমান্তবর্তী জেলায় তাঁর এই প্রথম সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা সফর থেকে জেলার সাধারণ মানুষের জন্য কী নতুন বার্তা বা প্রকল্প উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে কোচবিহার বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি কড়া পুলিশি পাহারায় সড়কপথে সরাসরি পৌঁছবেন শহরের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে। সেখানে তিনি পুজো দেবেন এবং আশীর্বাদ নেবেন। উল্লেখ্য, কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মদনমোহন মন্দিরের সঙ্গে জেলার ইতিহাস এবং সাধারণ মানুষের আবেগ দীর্ঘ দিনের। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে ১৮৮৫ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে এই সুবিশাল এবং ঐতিহাসিক মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। জেলার বিখ্যাত রাস উৎসব এবং রাস মেলার সঙ্গেও এই মদনমোহন মন্দিরের ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোচবিহারে পা রেখেই জেলার এই পরম আবেগের জায়গাকে সম্মান জানাতে চেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং আবেগকে মর্যাদা দেওয়ার এই উদ্যোগ তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অন্যতম প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: Kolkata Roads: লেনিন, কার্ল মার্কস সরণির নাম বদলের তোড়জোড়! দুর্গাপুজোর পরেই মেগা সিদ্ধান্ত, জানালেন কার্তিক মহারাজ
মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সোজা রওনা দেবে মন্দির সংলগ্ন রবীন্দ্র ভবনের উদ্দেশ্যে। সেখানেই কোচবিহার জেলার সমস্ত শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসকের সঙ্গে এক মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে মিলিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, এই বৈঠকে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিশদে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, রানওয়ের সম্প্রসারণ এবং বিমান পরিষেবাকে আরও উন্নত করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে এই বৈঠকে নতুন কোনো মেগা সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থান নিয়ে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের কড়া নির্দেশ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। যেহেতু এটি তাঁর প্রথম সফর, তাই কোচবিহারের সাধারণ মানুষের জন্য কোনো নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বা আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে বলেও স্থানীয় মহলে প্রবল জল্পনা এবং আশা তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই হাই-ভোল্টেজ সফরকে কেন্দ্র করে কোচবিহার শহর জুড়ে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মদনমোহন মন্দির এবং সেখান থেকে রবীন্দ্র ভবন পর্যন্ত সম্ভাব্য যাতায়াতের প্রতিটি রুটে পুলিশি নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রশাসনিক ভবন এবং জনবহুল এলাকাগুলিতে মেটাল ডিটেক্টর এবং স্নিফার ডগ দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই বিপুল নিরাপত্তার নেপথ্যে রয়েছে এক বছর আগের এক অত্যন্ত তিক্ত রাজনৈতিক ঘটনা। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের ওপর দুষ্কৃতীরা ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল এবং তাঁর বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সফরের সময় যাতে নিরাপত্তার সামান্যতম কোনো ত্রুটি না থাকে, তার জন্য রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছেন এবং গোটা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
আরও পড়ুন: Galiff Street: গ্যালিফ স্ট্রিটে বেআইনি পশু-পাখি বিক্রি বন্ধে কড়া হাইকোর্ট! মেগা পুলিশি অভিযানে ফাঁকা পোষ্যের হাট
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর মঙ্গলবারের এই কোচবিহার সফরটি আদ্যোপান্ত একটি সরকারি এবং প্রশাসনিক কর্মসূচি, এবং কোনো নির্দিষ্ট দলীয় বা রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই, তবুও রাজনৈতিক মহল এর নেপথ্যে অনেক বড় সমীকরণ দেখতে পাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে কোচবিহার বরাবরই একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং নির্ণায়ক জেলা হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনগুলিকে মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জেলার মানুষের মন জয় করার সুনিশ্চিত কৌশল গ্রহণ করেছেন বলেই মনে করছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে শাসকদলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী গোটা রাজ্যের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী এবং সেই কারণেই তিনি খোদ উত্তরবঙ্গে গিয়ে প্রশাসনিক কাজের তদারকি করছেন। অতীত সরকারগুলির মতো উত্তরবঙ্গকে আর বঞ্চনার শিকার হতে হবে না, এই বার্তাই তিনি বারবার দিতে চেয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর রবীন্দ্র ভবনের প্রশাসনিক মেগা বৈঠক থেকে কোচবিহার জেলার মানুষের জন্য শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী এবং এই সফরের ফলে জেলার সার্বিক উন্নয়নে ঠিক কতটা গতি আসে।




