Nandigram Rejinagar Bypoll: পঞ্চম রাউন্ডে ৪১,৫০০ ভোটে এগিয়ে হাসিরানি, রেজিনগরে চতুর্থ স্থানে নামল শাসকদল
Kolkata: রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলি। আজ শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ভোট গণনা। আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে ভোট গণনার প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট আপনাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সকালবেলা স্ট্রং রুমের তালা খুলে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই যে ট্রেন্ড সামনে আসতে শুরু করেছে, তাতে কার্যত চোখ কপালে উঠেছে তাবড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ইভিএম (EVM) মেশিনের সিল খোলার পর দেখা যায়, দুটি আসনেই প্রবল পদ্মঝড় উঠেছে এবং বিরোধীদের কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। রাজ্যের সাধারণ মানুষের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেজাজ কোন দিকে ঝুঁকছে, তার এক অত্যন্ত স্পষ্ট এবং জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে এই দুই কেন্দ্রের ব্যালট বক্স। বিজেপি, খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট—প্রত্যেকটি রাজনৈতিক শিবিরের কাছেই এই উপনির্বাচন নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক অ্যাসিড টেস্ট হলেও, বর্তমানে ভোটের ট্রেন্ডে গেরুয়া শিবিরের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম হতে দেখা যাচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বরাবরই বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম প্রধান এপিসেন্টার বা ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যার গতিপ্রকৃতি গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে ভোট গণনার লাইভ আপডেট অনুযায়ী, প্রথম রাউন্ড থেকেই বিপুল লিড নিতে শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া লেটেস্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩ রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পর হাসিরানি রথ রেকর্ড ১,০৫,৮৫৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে অন্যান্য প্রার্থীদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন। বেশ কয়েকটি বুথের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, সেখানে বিজেপি প্রার্থীরা প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে সক্ষম হয়েছেন, যা এক কথায় নজিরবিহীন। এই মুহূর্তে নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের প্রার্থীরা এই বিপুল মার্জিনের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি। মোট ১৫টি রাউন্ডে এই ভোট গণনা সম্পন্ন হবে, তবে পঞ্চম রাউন্ডেই যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা বাকি রাউন্ডগুলিতে বিরোধীদের পক্ষে কমানো প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রের ভোট গণনার ছবিটাও নন্দীগ্রামের থেকে খুব একটা আলাদা নয়, বরং সেখানকার পরিসংখ্যান আরও বেশি চমকপ্রদ। রেজিনগর বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৭২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে বিরোধী এবং শাসক শিবিরের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে সেই সমীকরণও সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। লাইভ আপডেটের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পর রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৩৭,৪৮৩ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থান রাজ্যম রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রার্থী তথা প্রবীণ নেতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কেন্দ্রে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে একেবারে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছেন।
Humayun Kabir Arrest: ‘পুলিশ ভোট করিয়েছে’, ১২ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক হুমায়ুন
ভোট গণনার এই একপেশে ট্রেন্ডের প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে গণনাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশের ওপর। নন্দীগ্রামে গণনার শুরুতে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেলেও, বহরমপুর গার্লস কলেজের রেজিনগর গণনাকেন্দ্র ছিল একেবারে শুনশান এবং শান্ত। বিজেপির এই বিপুল লিড এবং নিজেদের চূড়ান্ত পরাজয়ের ট্রেন্ড বুঝতে পেরেই অন্যান্য বিরোধী দলের প্রার্থীদের মধ্যে এক অদ্ভুত এবং হতাশাজনক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত ২০২৬ সালের মূল বিধানসভা নির্বাচনে এই রেজিনগর আসন থেকেই আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ৫৮,৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ যখন হারতে বসেছেন, তখন আজুপ (AJUP)-এর কোনো কাউন্টিং এজেন্ট বা প্রতিনিধি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন বোধ করেননি। একইভাবে, মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধিকেও গণনাকেন্দ্রের ত্রিসীমানায় দেখতে পাওয়া যায়নি, যা তাঁদের আগাম পরাজয় স্বীকারেরই নামান্তর।

আজকের এই ভোট গণনার দিকে শুধু বাংলা নয়, বরং দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের নজরও নিবদ্ধ রয়েছে। সাধারণ ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের যে গণতান্ত্রিক রায় দিয়েছেন, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথম কয়েকটি রাউন্ডের ট্রেন্ড সামনে আসার পরই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, পালাবদলের পর রাজ্যের প্রথম অ্যাসিড টেস্টে গেরুয়া শিবির এক ঐতিহাসিক জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর এবং ১৫ রাউন্ডের চূড়ান্ত ব্যবধান জানার অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে গোটা রাজনৈতিক মহল। এই মেগা ফ্রাইডের ভোট গণনার সমস্ত খুঁটিনাটি এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট পেতে আমাদের পেজে নিয়মিত নজর রাখুন। আমরা আপনাদের কাছে গণনাকেন্দ্রের ভেতরের সবচেয়ে দ্রুত এবং নির্ভুল আপডেট পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।




