Rahul Gandhi on Opposition Unity: কংগ্রেস-সিজেপি সংঘাতের মাঝেই একজোট হওয়ার বার্তা রাহুলের

Published:

Rahul Gandhi on Opposition Unity: বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের মাঝেই প্রকাশ্যে বিরোধী কোন্দল

New Delhi: বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে ১টি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ যত বেশি জোরদার হচ্ছে, ঠিক ততই যেন সামনে আসছে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের চরম অভাব। সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে দেশজুড়ে যে বিশাল প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে, সেখানে একাধিক শক্তিশালী বিরোধী দল অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু একই রাজনৈতিক ইস্যুতে অভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৃতিত্ব এবং আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টির বা সিজেপি-র মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ফলে আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনগুলিকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনমতকে ১টি নির্দিষ্ট জায়গায় আনার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, বিরোধী দলগুলির পারস্পরিক এই নির্লজ্জ টানাপড়েনেই তা কার্যত দুর্বল হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাটল অবিলম্বে না মেটালে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই মাঠে মারা যেতে পারে।

Advertisement

ঠিক এই চরম জটিল এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত ৩রা অক্টোবরের ডিজিটাল ‘সত্যাগ্রহ’-এর মেগা মঞ্চ থেকে তিনি কার্যত অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আলাদা আলাদা রাজনৈতিক প্রতিবাদকে একই স্রোতে যুক্ত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে ১টি বিষয় একেবারে পরিষ্কার যে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক লড়াইকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো ১টি দল বা ১টি একক কর্মসূচির মধ্যে আটকে না রেখে, তাকে ১টি বৃহত্তর গণআন্দোলনের চেহারা দিতে চাইছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দেশের আপামর সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে ১টি জাতীয় স্তরের ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরি করার লক্ষ্যেই এগোতে চাইছেন তিনি। কিন্তু সেই মহান লক্ষ্য বাস্তবে রূপায়ণের অনেক আগেই শরিক দল সিজেপি-র কয়েকজন শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য বিবৃতি এবং বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে বিরোধী জোটে নতুন করে ১টি মহা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে, যা যথেষ্ট উদ্বেগের।

Tripura Village Committee Election Result: ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটির মেগা নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ করে বিপুল জয় পেল তিপ্রা মথা ও বিজেপি জোট
Tripura Village Committee Election Result: ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটির মেগা নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ করে বিপুল জয় পেল তিপ্রা মথা ও বিজেপি জোট

আরও পড়ুনঃ Tripura Village Committee Election Result: ত্রিপুরা ভিলেজ কমিটির ভোটে বিপুল জয় তিপ্রা মথার! দ্বিতীয় বিজেপি, সাফ বাম-কংগ্রেস।

সিজেপি-র অন্দরের ক্ষোভ মূলত কংগ্রেসের তথাকথিত ‘উদারপন্থী’ শিবিরের বিরুদ্ধে। সিজেপি-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার চেষ্টা হচ্ছে বলে ১টি অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ওই দলের ২ দাপুটে নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। তাঁরা অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় যে ‘উদারপন্থী ইকোসিস্টেম’-এর প্রসঙ্গ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন, তা কংগ্রেসের একাংশ সরাসরি নিজেদের দিকে ১টি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে। সিজেপি নেতৃত্বের মতে, আন্দোলনে তাঁদের দলের সর্বভারতীয় নেতা অভিজিৎ দীপকের অবদানকে সুকৌশলে মুছে ফেলার ১টি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কংগ্রেস এবং সিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ১টি অদ্ভুত নীরবতা এবং তীব্র মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা কোনোভাবেই বিরোধী ঐক্যের পক্ষে শুভ সংকেত নয়। একে অপরের প্রতি এই চরম অবিশ্বাস এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বিরোধী জোটের ভিতকেই রীতিমতো নড়বড়ে করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

IMG 20261003 WA00111

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই ১টি বড়সড় প্রশ্ন উঠছে যে, একই রাজনৈতিক দাবিতে রাস্তায় নামা দলগুলি যদি জোটের বৃহত্তর স্বার্থ ভুলে পরস্পরের বিরুদ্ধেই এভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তা দিতে শুরু করে, তাহলে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য বাস্তবে ঠিক কতটা কার্যকর হবে? এর আগে অসমে স্কুল পরিদর্শন কর্মসূচিকে ঘিরে এই ২ দলের মধ্যে যে প্রাথমিক মতবিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে তা আরও বেশি প্রকাশ্য এবং নগ্ন রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আগামী দিনে যে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে ঠিক কে একেবারে সামনের সারিতে থাকবেন, কার নেতৃত্বে এই মেগা কর্মসূচি পরিচালিত হবে এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাজনৈতিক সাফল্যের আসল কৃতিত্ব কে নিজের ঝুলিতে ভরবে—এই ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ২ দলের মধ্যে চরম ঠান্ডা লড়াই এখন একেবারে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

West Bengal Bypoll Live Update: আজ নন্দীগ্রাম এবং রিজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মমতা পন্থী ও ঋতব্রত পন্থীদের মধ্যে মহা লড়াই শুরু হয়েছে
West Bengal Bypoll Live Update: আজ নন্দীগ্রাম এবং রিজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মমতা পন্থী ও ঋতব্রত পন্থীদের মধ্যে মহা লড়াই শুরু হয়েছে

আরও পড়ুনঃ West Bengal Bypoll Violence: সরকার বদলালেও বদলায়নি ভোটের চিত্র! নন্দীগ্রাম ও রিজিনগরে দিকে দিকে অশান্তি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী মেগা আন্দোলনকে যদি সত্যিই ধারাবাহিক এবং শক্তিশালী রূপ দিতে হয়, তাহলে সর্বাগ্রে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ এই চরম অবিশ্বাস এবং ইগোর লড়াই কমানো অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে একই ইস্যুতে একাধিক বিরোধী মঞ্চ তৈরি হলেও তার চূড়ান্ত রাজনৈতিক অভিঘাত কোনোভাবেই প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছবে পণ্ডিতরা। কারণ সাধারণ ভোটাররা বিরোধী দলগুলির এই লাগাতার অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখে খুব সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাই রাহুল গান্ধী যতই ঐক্যের বার্তা দিন না কেন, নিচুতলায় এবং শরিক দলের নেতাদের মধ্যে সেই ঐক্যের বাণী ঠিক কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। আগামী দিনে কংগ্রেস এবং সিজেপি নেতৃত্ব যদি নিজেদের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই রাজনৈতিক দূরত্ব না মেটাতে পারে, তবে জ্ঞানেশ কুমার বা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের এই বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা যে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়বে, তা কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ছাড়াই বেশ ভালোভাবেই অনুমান করা যায়।

IMG 20261003 WA0013

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img