Ratna Debnath on CBI Probe: হাইকোর্টের নির্দেশের পর ব্যারাকপুরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ অভয়ার মায়ের
Ratna Debnath on CBI Probe: আরজি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনার পর নির্যাতিতা অভয়ার নিথর দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের ১টি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টির তদন্তভার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী নির্দেশের পর রাজ্যের সাধারণ মানুষ বা বিরোধী শিবির খুশি হলেও, খোদ নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া সমগ্র রাজনৈতিক ও আইনি মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অতীত ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন। মেয়ের প্রতি হওয়া এই অবিচারের বিচার চেয়ে তিনি যে সিবিআইয়ের ওপর আর বিন্দুমাত্র ভরসা রাখতে পারছেন না, তা তাঁর কথাতেই একেবারে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ SIR Voter List Bengal: SIR-এ বাদ বাংলার ২৭ লাখ ভোটার! নাম তোলার নয়া নির্দেশিকা কমিশনের।
কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর এতটা ক্ষুব্ধ অভয়ার মা? সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে রত্না দেবনাথ অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে জানান যে, তাঁর মেয়ের মৃতদেহ রাতের অন্ধকারে যেভাবে বলপূর্বক এবং তড়িঘড়ি দাহ করে দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টিতে ১ম থেকেই চূড়ান্ত উদাসীনতা দেখিয়ে এসেছে সিবিআই। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের তরফ থেকে বারবার দরবার করা সত্ত্বেও এবং একাধিকবার বিষয়টি তাদের নজরে আনা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেননি। সিবিআইয়ের মতো ১টি দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থার এই চূড়ান্ত গাফিলতি এবং উদাসীনতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ১ জন সন্তানহারা মা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরিবার কখনওই চায়নি যে এই নির্দিষ্ট বিষয়টির তদন্তভার ফের সেই সিবিআইয়ের হাতেই যাক, যারা এতদিন ধরে এই বিষয়টা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছে।

এই ঘটনার আইনি ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অভয়ার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের এই মারাত্মক অভিযোগের তদন্ত করার জন্য কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের হাতে বিশেষ দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে রাজ্য পুলিশ এই বিষয়ে তদন্তও শুরু করেছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট অত্যন্ত কড়া ভাষায় পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করে মুখ্যমন্ত্রীর সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশেই এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তভার রাজ্য পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, মূল ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে, তাই আনুষঙ্গিক এই বিষয়টির তদন্তও তাদেরই করা উচিত। কিন্তু আদালতের এই যুক্তির পরেও রত্না দেবনাথের অসন্তোষ প্রমাণ করছে যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের আস্থার চূড়ান্ত অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Rathindra Bose Hospitalized: বুকে তীব্র ব্যথা! তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র
রত্না দেবনাথ এদিন আরও ১টি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের এই মামলাটি কোনোভাবেই আরজি করের মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলার সমান্তরাল কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। তাঁর মতে, বলপূর্বক ১ জন নির্যাতিতার নিথর দেহ পরিবারের অসম্মতিতে পুড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করার অপরাধে এটি সম্পূর্ণ ১টি পৃথক এবং স্বাধীন আইনি লড়াই। এই লড়াই শুধুমাত্র তাঁর মেয়ের জন্য নয়, বরং গোটা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ১টি বৃহত্তর সংগ্রাম। মূল ঘটনার বিচার যেমন জরুরি, ঠিক তেমনই কারা কী উদ্দেশ্যে এবং কার নির্দেশে অত দ্রুত দেহ সৎকার করার চক্রান্ত করেছিল, তার মুখোশ টেনে খুলে দেওয়াটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিজেপি বিধায়ক। এই পৃথক আইনি লড়াই চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে পিছপা হবেন না, তা তাঁর দৃঢ় কণ্ঠস্বরেই প্রমাণিত হয়েছে।
![]()
এই মামলায় সদ্য জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের মতো এমন ১টি অত্যন্ত গুরুতর এবং সংবেদনশীল মামলায় অভিযুক্তদের এত দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়াটা পরিবারের কাছে ১টি বড় ধাক্কা হলেও, হার মানতে নারাজ রত্না দেবনাথ। ব্যারাকপুরের মাটি থেকে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তদের জামিন হয়ে যাওয়া মানেই এই আইনি লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তিনি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ১ জন জনপ্রতিনিধি এবং সর্বোপরি ১ জন সন্তানহারা মা হিসেবে তাঁর এই লড়াই যে আগামী দিনে প্রশাসন এবং তদন্তকারী সংস্থা উভয়ের জন্যই যথেষ্ট চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিবিআই নতুন করে এই তদন্তে ঠিক কতটা তৎপরতা দেখায় এবং অভয়ার পরিবার শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পায় কি না।




